বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

একটি পোশাক দেখে সন্তানরা মনে করছেন মরদেহটি রহিমা বেগমের!

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:৫১

ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহের একটি পোশাক দেখে খুলনায় নিখোঁজ গৃহবধূ রহিমা বেগমের (৫২) সন্তানরা লাশটি তাদের মায়ের হতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে, ফুলপুর থানা পুলিশ বলছে, ডিএনএ পরীক্ষার পর লাশটি রহিমা বেগমের অথবা অন্য কারও কিনা তা বলা সম্ভব হবে। এর আগে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব না।

এদিকে, খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানা পুলিশ এবং মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রহিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে নিখোঁজ গৃহবধূ রহিমা বেগমের লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর খুলনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নিখোঁজ রহিমা বেগমের মেয়ে মরিয়ম মান্নানসহ স্বজনরা ফুলপুর থানায় অবস্থান করেন। এ সময় মরিয়ম মান্নান গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা এক নারীর গলিত মরদেহের চারটি পোশাকের মধ্যে একটি স্যালোয়ার তার নিখোঁজ মায়ের বলে মনে করছেন। তবে বাকি তিনটি পোশাক সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি। ফলে বলা যাবে না, ফুলপুর থানা এলাকায় উদ্ধার হওয়া নারীর লাশ রহিমা বেগমের।

ফেসবুক স্টাট্যাস।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া লাশটি ডিএনএ টেস্ট করানো হবে। এর পরেই শনাক্ত করা যাবে লাশটি আসলে কার।

এদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মরিয়ম মান্নানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার ভাই মো. সাদীকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ না করে কেটে দেন। 

তবে, শুক্রবার দুপুরে নিখোঁজ রহিমা বেগমের মেয়ে মরিয়ম মান্নান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, ‘লাশটি পচা গলা অবস্থায় পেয়েছেন তারা। আমি অফিসিয়াল প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করছি। আমার মায়ের কপাল, আমার মায়ের হাত, আমার মায়ের শরীর আমি আমি কিভাবে ভুল করি। ফুলপুর থানা, ময়মনসিংহ এবং চইও পিবিআই ময়মনসিংহ এবং জঅই ১৪ আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন এই বিষয়ে। অফিসিয়াল কাজ পরে আমি সবার সঙ্গে কথা বলব প্লিজ।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মরিয়ম মান্নান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি এই মাত্র’। এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর দেখা যায়, অনেকে শেয়ার করেছেন।

উদ্ধার হওয়া নারীর ব্যবহৃত কাপড়। ছবি: ইত্তেফাক

এরপর তিনি আরেকটি স্ট্যাটাসে লেখেন ‘আর কারো কাছে আমি যাবো নাহ! কেউকে আর বলবো নাহ আমার মা কোথায়! কেউকে বলবো নাহ আমার মাকে একটু খুঁজে দিবেন! কেউকে আর বিরক্ত করবো নাহ! আমি আমার মা’কে পেয়ে গেছি!’ 

এরপর বিষয়টি সম্পর্কে জানতে মরিয়ম মান্নানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে, এক পর্যায়ে তিনি ‘আই উইল কল ইউ প্লিজ’ লিখে একটি ম্যাসেজ পাঠান।

মোবাইল ফোনে তার ভাই মো. সাদীকে ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ না করে কেটে দেন। পরে তার ফোনে একাধিকবার রিং দেওয়া হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

ফেসবুক স্টাট্যাস।

নিখোঁজ ওই নারীর বাড়ি খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানা এলাকায়। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, তিনিও লোকমুখে ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে শুনেছেন। কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারেননি।

ঐ নারী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করছে পিবিআই। এ ব্যাপারে জানতে সংস্থাটির খুলনার পুলিশ সুপারকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকা থেকে গৃহবধূ রহিমা বেগম নিখোঁজ হন। পরদিন রহিমা বেগমের মেয়ে আদুরী খাতুন বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

ইত্তেফাক/এএএম