শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ে ধীরগতি

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:০০

উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের কাছ থেকে মোট ৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা (১ ডলার সমান ৯৬ টাকা হিসাবে)। অর্থ ছাড়ের এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের এই দুই মাসে ছাড় হয়েছিল ১১৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার বা প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। তবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে টাকার অঙ্কে আগের চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ দুই মাসে অর্থছাড় তুলনামূলক কম হলেও ঋণের নতুন প্রতিশ্রুতি আগের সময়ের চেয়ে বেশি এসেছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই দুই মাসে ৭ কোটি ৩৩ লাখ ২২ হাজার ডলারের ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি এলেও চলতি অর্থবছরের এ দুই মাসে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৩০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ, নতুন করে এই ঋণের জন্য চুক্তি হয়েছে। করোনা মহামারি কাটিয়ে ওঠার পর দেশের উন্নয়ন প্রকল্পেও গতি ফিরে আসতে থাকে। এর ফলে করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো অর্থের প্রবাহও বাড়িয়েছিল। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ ছাড় করেছিল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলো। তার আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ঋণসহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারি করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ উন্নয়ন সগযোগী সংস্থাগুলো থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঋণসহায়তা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় গত বছরের চেয়ে ঋণের পরিমাণ কমেছে। তবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঋণ পরিশোধে চাপও বেড়ে যাচ্ছে।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে জাপান, ৩২ কোটি ৯১ লাখ ডলার। চীনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ১৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ছাড় করেছে ১৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাংক ছাড় করেছে ৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার। ভারত ছাড় করেছে ৭ কোটি ১৯ লাখ ডলার। এছাড়া রাশিয়া ৪১ লাখ ১০ হাজার ডলার, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) ছাড় করেছে ১৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।

জুলাই-আগস্ট সময়ে আগে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত বছরের একই সময়ে সুদ-আসল বাবদ ২৯ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার ডলার শোধ করা হয়েছিল। ডলারের হিসাবে ঋণ পরিশোধ কমলেও টাকার অঙ্কে ঋণ পরিশোধ বেড়ে গেছে। ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, টাকার অবমূল্যায়ন হওয়ায় আগের চেয়ে বেশি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। গত অর্থবছরের দুই মাসে ২ হাজার ৫৩০ কোটি ৬২ লাখ টাকা শোধ করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের দুই মাসে পরিশোধ করতে হয়েছে ২ হাজার ৭৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

 

 

ইত্তেফাক/ইআ