বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কালো ডিম খাওয়ার পাশাপাশি বিক্রি করছেন নাজমা 

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫০

মোংলায় একটি হাঁস কালো ডিম পেড়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে খাঁকি ক্যাম্পবেল হাঁস এ কালো ডিম পাড়ছে। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালেও খোপে একটি কালো ডিম পেয়েছেন হাঁসপালনকারী ওই বাড়ির গৃহিণী। 

উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিনমজুর বাসিন্দা জুলফিকার গাজীর (৩৫) স্ত্রী নাজমা বেগম দারিদ্র্যতার কারণে তিন মাস ধরে হাঁস লালনপালন করে আসছেন। তিন মাস আগে নবলোক নামক একটি এনজিও থেকে তাকে দেওয়া হয় ২৫টি খাঁকি ক্যাম্পবেল হাঁস। সেইসঙ্গে তিনি আরও ১০টি হাঁস কিনে পুষতে শুরু করেন। এরপর হাঁসগুলোর মধ্যে ১০টি গত ১৪/১৫ দিন ধরে ডিম পাড়তে শুরু করেছে। এরমধ্যে একটি হাঁস কালো ডিম দিয়ে আসছে। প্রতিদিন খোপ থেকে একটি কালোসহ নীল বর্ণের ৪/৫টি করে ডিম পাচ্ছেন ওই গৃহিণী। 

নাজমা বেগম বলেন, ১৪/১৫ দিন ধরে একটি হাঁস কালো ডিম দিচ্ছে। তিনি প্রতিদিন ওই ডিম বিক্রি করছেন। ডিম বিক্রির টাকা দিয়ে হাঁসের খাবার কিনে আসছেন তিনি। এছাড়া শনিবারও একটি কালো ডিম পেয়েছেন খোপ থেকে। দুপুরে দুইটি কালো ডিম রান্না করে খেয়েছেন তারা। একটি ভেজে খান তারা। তবে ডিম কালো হলেও কুসুম অন্য ডিমের মতোই। কুসুমের রঙে কোনো ভিন্নতা নেই বলেও জানান তিনি। 

তিনি আরও বলেন, এ ক্যাম্পবেল হাঁস বেশির ভাগই নীলচে রঙের ডিম দেয়, সাদা ডিম দেয় না বললেই চলে। তাই ডিম যেহেতু নীল, সাদা ও লাল বর্ণের হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে কালোও হয়ে থাকতে পারে। তাই কালো ডিম কেন দিলো তা নিয়ে তিনি তেমন কোনো ধরনের চিন্তাও করেননি। তিনি এটাকে স্বাভাবিক ভেবে নিয়েছেন।

কালো ডিম পাড়ার বিষয়টি নাজমা বেগম কোনো চিন্তা ভাবনায় না নিলেও মূলত তার কাছ থেকে যারা ডিম কিনেছেন, তাদের মাধ্যমেই কালো ডিম পাড়ার বিষয়টি শনিবার বিকালে জানাজানি হয়। এরপর লোকজন সেই কালো ডিম দেখার জন্য ওই বাড়িতে গেলে মাত্র একটি ডিম দেখতে পান কৌতুহলী লোকজন। উৎসুক লোকজনের সামনেই সেই কালো ডিমটি ভেঙে ভেজে খায় ওই পরিবার। হাঁসের কালো ডিম দেওয়ার বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় বিকেল থেকে ওই বাড়িতে দূরদূরান্তের লোকজন ছুটে যাচ্ছেন।  

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অমল কুমার সরকার বলেন, হাঁসের কালো ডিম কেন হয়, সেটা আমার জানা নেই।

ইত্তেফাক/এইচএম