বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সিরাজগঞ্জে বেড়েছে চোখ ওঠা রোগ, আক্রান্তদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:১৭

সিরাজগঞ্জে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে চোখ ওঠা (কনজাংটিভাইটিস) রোগীর সংখ্যা। প্রতিবছর গ্রীষ্মে এ রোগের দেখা মিললেও এবার শরতে বেড়েছে এর প্রকোপ। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১০০ এর বেশি রোগী আসছেন চোখ ওঠার চিকিৎসা নিতে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে হাজারের বেশি কনজাংটিভাইটিস আক্রান্ত রোগী সেবা নিয়েছেন। রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত পরিবারের অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই চিকিৎসা নিতে আসা বেশিরভাগই একই পরিবারের সদস্য।

এবিষয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুল হক বলেন, ভাইরাসটি একধরনের মহাহারি করোনার মতো উচ্চমাত্রার সংক্রামক রোগ। প্রতিশেধকের কোনো ব্যবস্থা নেই। আক্রান্ত রোগী থেকে দূরে থাকতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে। এমনিতেই রোগ হয় এবং ভালোও হয়। ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চোখেন মনি নষ্ট হওয়ার সম্ভনা থাকে। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত রোগীর চোখের মনি নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য এন্টিবায়োটিক এবং এন্টিভাইরাল দিয়ে থাকি। 

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. রামপদ রায় বলেন, চোখ ওঠা রোগী থেকে দূরে থাকতে এবং চোখ উঠলে কী কী করণীয় সেটার উপরে প্রত্যেকটি হাসপাতালে করণীয় বিষয় নির্দেশনা দিয়েছি এবং লিফলেট বিতরণ করছি। ঋতু পরিবর্তনের কারণে এসময় চোখের রোগবালাই হয়ে থাকে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে চোখ ওঠা। এটি একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। কনজাংটিভাইটিস বা চোখের পর্দায় প্রদাহ হলে তাকে চোখ ওঠা বলে। এতে রোগীর হাতের বা ব্যবহৃত জিনিসপত্রের সংস্পর্শে আশেপাশের অনেককেই আক্রান্ত করতে পারে।

হাসপাতালের আরএমও ফরিদ শেখ  বলেন, চোখ ওঠার সমস্যাটি ঋতু পরিবর্তনের সময় হয়ে থাকে। তবে এ বছর এ রোগে আক্রান্ত রোগী প্রচুর পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এটি পুরোপুরি ছোঁয়াচে রোগ। এ থেকে বাঁচতে হলে কালো চশমা ব্যবহারের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হবে। তা না হলে লাভের চেয়ে ক্ষতিও হতে পারে।

ইত্তেফাক/এইচএম