শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিপজ্জনক পর্যায়ে যাচ্ছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ 

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৩৯

চলতি বছরের গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর আজ বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত টানা ২১৭ দিনের মতো চলছে দেশ দুইটির সংঘাত। এতে দুই পক্ষের বহু হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো পূর্ব ইউক্রেনে দেশ দুইটির মধ্যে সংঘাত আরও জোরদার হয়েছে।  

কয়েকদিনের মধ্যে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলের মাধ্যমে সেখানে পুতুল সরকার বসানোর যে প্রয়াস নিয়ে পুতিন আগ্রাসন শুরু করেছিলেন তা এখন পর্যন্ত অধরাই। উল্টো ইউক্রেনে রুশ বাহিনী যে ধুঁকছে তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পশ্চিমাদের দাবি, ইউক্রেনে প্রবল জনবল সংকটে ভুগছে রুশ বাহিনী। এরই মধ্যে পুতিন দেশটিতে আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে করে অন্তত তিন লাখ রিজার্ভ সেনা ইউক্রেন যুদ্ধ পাঠানো হবে বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ব্যর্থতা আড়াল করতে পুতিন দেশটিতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। তারই অংশ হিসেবে লুহানস্ক, দোনেতস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিঝিয়াতে গণভোটের আয়োজন করেছে রুশপন্থী কর্তৃপক্ষ। গতকাল শেষ হওয়া গণভোটের ফলাফলে রাশিয়া এসব অঞ্চলে বিজয় দাবি করেছে। 

এই গণভোটকে 'জালিয়াতি' আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন এবং তার মিত্র দেশগুলো। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এসব অঞ্চলে প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে ভোট দেবার আহবান জানানো হয়েছিল। এ চারটি অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূমির প্রায় ১৫ শতাংশ। 

দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে রুশপন্থী বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা খবর দিচ্ছে, ৯৯ দশমিক ২৩ শতাংশ মানুষ রাশিয়ায় যোগ দেবার পক্ষে ভোট দিয়েছে। যদিও পশ্চিমারা দাবি করেছে, এসব অঞ্চলের ভোটের ফলাফল আগে থেকে নির্ধারণ করা।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার রাশিয়ার পার্লামেন্টে-এর এক যৌথ অধিবেশনে এ চারটি অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ করে নেবার ঘোষণা দেবেন।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাশিয়া যদি এই চারটি অঞ্চলে নিজেদের অংশ করে নেয়, তখন যুদ্ধ আরেকটি ভিন্ন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাবে। কেননা এসব অঞ্চল রাশিয়া নিজেদের বলে ঘোষণা দেওয়ার পর তা যেকোনো প্রকারে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে তারা তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা সকল অস্ত্র ব্যবহার করবে। 

এছাড়া পুতিন বলেছেন, তাদের ভুখণ্ড রক্ষা করতে দরকার হলে তারা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে। আর এটা কোনো ধাপ্পাবাজি নয়। গতকাল মঙ্গলবার একই কথা বলেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট। 

এর জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান বলেছেন, ভ্লাদিমির পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যে হুমকি দিয়েছেন তা ধাপ্পা বলে উড়িয়ে না দিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। 

রুশ হামলায় বিধ্বস্ত ভবন

এদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের এসব অঞ্চল নিজেদের বলে ঘোষণা দিলে তা ফেরত পাবার জন্য ইউক্রেন যখন যুদ্ধ করবে তখন সেটিকে রাশিয়া তাদের সার্বভৌম ভূমিতে হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে।

কিন্তু ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা তাদের কোনো ভূখণ্ডই রাশিয়ার দখলে থাকতে দেবে না। এমনকি ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে যাওয়া ক্রিমিয়া অঞ্চলও পুনর্দখল নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইউক্রেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো রাশিয়ার এই নতুন পদক্ষেপ মেনে নিয়ে চুপ করে বসে থাকবে না।

এতে করে আগামী দিনগুলোতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যে আরও বিপজ্জনক দিকে তারই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা, সিএনএন 

ইত্তেফাক/এসআর