বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হীরকজয়ন্তীর ক্ষণে ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের গোল টেবিল 

একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্ক জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৩৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৬০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে বিস্তার ঘটেছে নানা মুখী গণমাধ্যম। তাই হীরকজয়ন্তীতে এক গোল টেবিল আলোচনায় একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্ক জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনেরা। তারা বলেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ দক্ষ ও সময়োপযোগী সাংবাদিকদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেবে। কারিকুলামে প্রতিনিয়তই নতুন বিষয় যুক্ত করতে হবে। আর কাজ করার মাধ্যমে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়তই তাদের জ্ঞানকে শানিত করবেন। এতে পড়ার কোন বিকল্প নেই। তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর সাংবাদিকতা এখন সময়ের দাবি।

হীরকজয়ন্তীর ক্ষণে ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের গোল টেবিলে আগত অতিথিরা। ছবি- ইত্তেফাক

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রথম পর্ব আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান,বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রথিতযশা সাংবাদিক আবেদ খান। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক জিয়া রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শবনম আযীম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। 

হীরকজয়ন্তীর ক্ষণে ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের গোল টেবিলে বক্তব্য রাখছেন দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। ছবি- ইত্তেফাক

সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সাংবাদিকতার ক্ষেত্র বাড়লেও সাংবাদিকদের ব্যক্তি চেতনার পরিবর্তে অন্ধ অনুকরণ দেখা যাচ্ছে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্র অনেক বাড়ছে। কিন্তু কোথাও যে একটা অন্ধকার জায়গায় পৌঁছে গেছে। সাংবাদিকতায় আমরা যে ডেডিকেশন, বিশ্বাস স্বার্থ ত্যাগ দেখেছি, এই জায়গাটা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকতা  হচ্ছে বহতা নদীর মতো। নতুন নতুন জিনিস নিয়ে আসা, নতুন নতুন স্বপ্ন তৈরি করতে হয়। এখানে যদি চিন্তাভাবনার স্ফুরণ না ঘটে, মুক্তভাবে কাজ করা না যায়, সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটবে না। সাংবাদিকদের মুখ খুলে দিতে হবে এবং মুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।তিনি বলেছেন, এখন সাংবাদিক হওয়ার বদলে সবাই কর্মচারী হয়ে যাচ্ছে, সেখানে সম্পাদক থাকছে না, থাকছে সিইও। সিইও যখন থাকে তখন কর্পোরেট কালচার আধিপত্য করছে।

হীরকজয়ন্তীর ক্ষণে ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের গোল টেবিলে আগত অতিথিরা। ছবি- ইত্তেফাক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান দক্ষ ও যুগোপযোগী গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্ক জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সমন্বয় এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের একটি উপায়। গ্র্যাজুয়েটদের কর্মদক্ষতা ও গুণগত মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রির পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণ করা উচিত। সমাজ ও জাতির চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহবান জানান। সাংবাদিকতা শিক্ষাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে দেশের গণমাধ্যম সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হীরকজয়ন্তীর ক্ষণে ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের গোল টেবিলে বক্তব্য রাখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। ছবি- ইত্তেফাক

‘ইন্টারেকশন এন্ড ইন্টারডিপেন্ডেন্স বিটুইন একাডেমিয়া এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ডিজিটাল এ্যাক্ট লেখার জন্য অন্তরায় উল্লেখ করে বলেন, এ জন্য আমরা ধরি মাছ, না ছুঁই পানি এভাবে লেখালেখি করি।তিনি বলেন, সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশুনা করেই যে সাংবাদিক হতে হবে, আমি তা মনে করি না। যে কোন শিক্ষা আলো ছড়ায়। সাংবাদিকতা এমন এক পেশা যেখানে পড়াটা চলমান রাখতে হবে। এখন টেকনোলজির সময়, পরিবর্তিত এই সময়কে ধারণ করতে হবে। মেধাকে মূল্যায়ন করেত হবে। কাজের সুযোগ দিতে হবে। সাংবাদিকদের নিউজ সেন্স গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

হীরকজয়ন্তীর ক্ষণে ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের গোল টেবিলে আগত অতিথিরা। ছবি- ইত্তেফাক

গোলটেবিল বৈঠকে সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়ার রেজা বলেন, মিডিয়ার উপর জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে গেছে। জনগণ যে কন্টেন্ট জানতে চাচ্ছে, সেগুলো পাচ্ছে না। বড় ধরনের ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা বিভাগের কারিকুলার তৈরির ক্ষেত্রে তিনি ইন্ডাস্ট্রির মতামত গ্রহণ করার আহ্বান জানান।  

ছবি- ইত্তেফাক

সাংবাদিক নেতা সৈয়দ মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সাংবাদিকতা করতে সাংবাদিকতা বিভাগের পড়ার প্রয়োজন হচ্ছে না। সাংবাদিকতা ডিপার্টমেন্টের কি শুধু মিডিয়া চাকরি করবে এরকম ছেলে মেয়ে তৈরি করবে? মিডিয়া নিয়ে গবেষণা করে না কেউ। আমরা রয়টার্স ইনস্টিটিউট থেকে যে গবেষণা পাই, বাংলাদেশে তো এরকম গবেষণা নাই। বাংলাদেশের মিডিয়া আত্মহত্যার দিকে যাচ্ছে, তারপরও তারা গবেষণা করে না। তিনি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সিলেবাস পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

হীরকজয়ন্তীর ক্ষণে ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের গোল টেবিলে আগত অতিথিরা। ছবি- ইত্তেফাক

সাংবাদিক সুমনা শারমিন বলেন, সাংবাদিকদের জন্য সংবাদ পত্র পড়া পাঠ্য বই পড়ার সামিল। প্রতিদিন সংবাদ পত্র পড়তে  হবে।

সাংবাদিক আনিসুল হক বলেন, একাডেমিয়া মৌলিক একটা স্বাক্ষরতা শিখাবে। বাকিটা কাজের মাধ্যমে শিখবে।

ছবি- ইত্তেফাক

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় গোল টেবিল আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক নাদির জুনাইদ, সাবেক শিক্ষক ও আজকের পত্রিকার সম্পাদক গোলাম রহমান, আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, চলচ্চিত্র শিল্পী পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সাংবাদিক ও কলামিস্ট স্বদেশ রায়, অভিনেত্রী ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ত্রপা মজুমদার, সাংবাদিক মুন্নী সাহা, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এমএএম