শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিশ্ব হার্ট দিবস আজ

দেশে প্রতি পাঁচ তরুণের এক জন হৃদরোগ ঝুঁকিতে

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:০৪

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে ১.২৮ বিলিয়ন মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। যার দুই-তৃতীয়াংশের বাস বাংলাদেশসহ নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বাংলাদেশে বছরে ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেন। যার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। দেশে প্রতি পাঁচ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে এক জনের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা করা না হলে বুকে ব্যথা, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইল এবং হার্ট বিট অনিয়মিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে তরুণদের মধ্যেও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি পাঁচ জন তরুণের মধ্যে এক জন হৃদরোগ ঝুঁকিতে রয়েছে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, ‘পৃথিবীব্যাপী মোট মৃত্যুর ৩২ শতাংশ হয়ে থাকে হৃদরোগ এবং রক্তনালির রোগের কারণে। বাংলাদেশেও হৃদরোগের ভয়াবহতা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তরুণ ও যুবকরা হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।’

এমন পরিস্থিতিতে আজ ২৯ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস-২০২২। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘ইউজ হার্ট ফর এভরি হার্ট’। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ প্রবণতার অন্যতম কারণ ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাদ্যগ্রহণ। ট্রান্সফ্যাট একটি ক্ষতিকর খাদ্য উপাদান;  যা হৃদরোগ ও হৃদরোগজনিত অকাল মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়। ডালডা বা বনস্পতি ঘি এবং তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার, ফাস্টফুড ও বেকারি পণ্যে ট্রান্সফ্যাট থাকে। বিশ্ব জুড়ে হৃদরোগ ও হৃদরোগজনিত অকাল মৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস করতে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশব্যাপী উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরি এবং সব কমিউনিটি ক্লিনিকে রক্তচাপ পরীক্ষা ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজেট বাড়ানো প্রয়োজন। তারা বলছেন, সারা বিশ্বে হৃদরোগের কারণে বছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ লোক মারা যায়। উন্নত আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাত্রা, অস্বাস্থ্যকর জীবনাভ্যাস, অসচেতনতা এসব কারণে হৃদরোগ শুধু বড়দের নয়, শিশু-কিশোরদের মাঝেও দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, বিশ্বের অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর প্রধান কারণ হৃদরোগ। ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থুলতা, মেটাবলিক সিনড্রোম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কায়িক পরিশ্রমহীন আধুনিক জীবনযাপন, বায়ুদূষণ ইত্যাদি কারণে হৃদরোগ বাড়ছে।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন