বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বজ্রপাত থেকে রক্ষা ও শোভা বর্ধনে শিক্ষকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫৬

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বাড়িতে বাড়িতে ও রাস্তার পাশে একসময় অসংখ্য তালগাছ ছিল। যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলতো। এখন তেমন একটা দেখা যায় না, যা ছিল তাও কমে বিলুপ্তির পথে।

এই অবস্থায় এলাকাবাসীকে বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা ও তালগাছ বাঁচিয়ে রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চকবরু গ্রামের এস এম আমিনুল হক স্বপন। পেশাগত জীবনে তিনি দক্ষিণ পুস্তিগাছা বনানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে তার সংসার।

পরিবেশ সচেতন এই মানুষটি ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন। ইতোমধ্যেই তার রোপণ করা গাছগুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সঙ্গে রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে।

সলংগা থানার দক্ষিণ পুস্তিগাছা-বনানী বালিকা বিদ্যালয় থেকে শলী বাজার ০.৫ কিলোমিটার। হরিণ চড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে ধরাইল হাট ৪ কিলোমিটার রাস্তার দু’ধারে। ধরাইল গাছগাড়াঁ ব্রিজ থেকে কুচিয়ামারা দিকে ১ কিলোমিটার। দবিরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড থেকে বিশ্বরোডের দক্ষিণ পাশ দিয়ে ভেংড়ি গ্রাম পর্যন্ত ২.৫ কিলোমিটার। চকবরু গ্রাম ও এর আশেপাশে ১ কিলোমিটার। পুস্তিগাছা গ্রাম থেকে কচিয়ার বিলের দিকে ০.৫ কিলোমিটার। শলী বাজার থেকে বাঘমারা গ্রাম ও ভেংড়ি পূর্ব পাড়া পর্যন্ত এবং শলী গ্রামের পাশে ৩ কিলোমিটার। বর্তমানে তার নিবিড় পরিচর্যায় গাছগুলো বড় হচ্ছে।

তালগাছ প্রেমিক স্বপন বলেন, আমাদের দেশে প্রতি বছরই বজ্রপাতে প্রাণ হানির ঘটনা ঘঠে। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় গাছ-পালা নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে বৃক্ষ রোপণের বিকল্প নেই। তাই আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

দৃষ্টিজুড়ে তালগাছ

এক প্রশ্নের জবাবে তালবৃক্ষ প্রেমিক স্বপন বলেন, ছোটবেলা থেকেই গাছ রোপণের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। আমি প্রথম পর্যায়ে বেশ কিছু বাবলা গাছের চারা লাগিয়েছিলাম। কিন্তু সে গাছগুলো একটু বড় হলে যার যার মতো কেটে নিয়ে যায়। এতে আমার মনোবল ভেঙে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর আবার তালের চারা রোপণের কাজ শুরু করি।

পরিবেশ সচেতন স্বপন আরও বলেন, অপার সৌন্দর্যের আধার তালগাছ। ব্জ্রপাত নিধোরক তালগাছ। মাটির ক্ষয়রোধকারী ও দীর্ঘজীবী তালগাছ। বহুগুণের ফল তাল। তালশাঁস শরীরকে শীতল করে, হাড় ও কোষের ক্ষয় রোধ করে। এই গাছে পাখিরা বাসা বাঁধে। কাঠ ও জ্বালানি হয়, এছাড়া তালগাছের পাতা দিয়ে হাতপাখা, মাদুর ও খেলনাসহ গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়।

তালগাছ প্রেমী শিক্ষক এস এম আমিনুল হক স্বপন জানান, তার লক্ষ্য জীবনে কমপক্ষে এক লাখ তালগাছের চারা লাগানো। তিনি এ মহৎ কাজে সবার সহযোগিতা কামনা করে সবাইকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে প্রিয় জন্মভূমিকে বৃক্ষ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এইচএম