বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হাসিনা: এ ডটারস টেল, হৃদয়স্পর্শী গল্পের প্রশংসায় ব্রুনেইয়ের চলচ্চিত্র নির্মাতা 

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২০:২৬

হাসিনা: এ ডটারস টেল প্রামাণ্যচিত্র দেখে এর হৃদয়স্পর্শী গল্পের প্রশংসা করেছেন ব্রুনেইয়ের পুরস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা পেঙ্গিরান জানাইদি। 

ব্রুনেইয়ের পুরস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা পেঙ্গিরান জানাইদি বলেন, “আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছি। আমার প্রিয় অংশ ছিল, তার কাছ থেকে পরিবারের ও সন্তানদের কথা স্মরণ করার বিষয়টি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এইভাবে গল্প শোনা আমাদের মধ্যে মাতৃসুলভ অনুভূতি দেয়।
“প্রামাণ্যচিত্রটির হৃদয়স্পর্শীর দিকটি খুবই আকর্ষণীয়। এখানে পারিবারিক পরিস্থিতি খুব ভালভাবে ধারণ করা হয়েছে।” 

ছবি: সংগৃহীত

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার ব্যক্তি জীবনের অজানা-অদেখা গল্প নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’ প্রদর্শিত হয়েছে ব্রুনেইতে। দেশটির রাজধানী বন্দর সেরি বেগওয়ানের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইউটিবি’র লেকচার থিয়েটার হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত এ প্রামাণ্যচিত্রটি দেখানো হয়।

শেখ হাসিনা। ছবি- সংগৃহীত

ব্রনাইয়ের বাংলাদেশের হাই কমিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক প্রতিনিধি, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। 

ছবি: সংগৃহীত

হাসিনা: এ ডটারস টেল দেখার পর ব্রুনেইয়ে পূর্ব তিমুমের রাষ্ট্রদূত আবেল গুতেরেজ বলেন, “আমি এটা দেখে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। কারণ, এই সংগ্রাম অন্যান্য মানুষের সংগ্রামের থেকে আলাদা।” 
চলচ্চিত্র নির্মাতা পেঙ্গিরান জানাইদি বলেন, “প্রামাণ্যচিত্রটির গল্প বলার ক্ষেত্রে অনেক ফুটেজ ছিল, যেগুলো খুব ভালোভাবে একসাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। সংগীত এটিকে প্রাণবন্ত করতে সহায়তা করেছে। 
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরাও তাদের অনুভূতি তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন-সংগ্রামের গল্প শুনে তারা অভিভূত হন। 
২০১৮ সালের নভেম্বরে 'হাসিনা: আ ডটারস টেল' সিনেমা হলে মুক্তি পায়। পরে টেলিভিশন চ্যানেলেও এর সম্প্রচার হয়।

ছবি: সংগৃহীত

১৯৫২ সালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকায় আসা থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনা উঠে এসেছে এই প্রামাণ্যচিত্রে। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকা অবস্থায় পরিবারের সব সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়।

এরপর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরা, দিক হারানো আওয়ামী লীগের হাল ধরে দলকে আবার কক্ষপথে ফেরানো, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীত্ব- সব বিষয়ই প্রামাণ্যচিত্রে তুলে এনেছেন নির্মাতা।

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রে স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছে বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক, তার সংস্পর্শে বেড়ে ওঠা, বাবার রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি তার অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি।

আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন-সিআরআই এর ব্যানারে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটির প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র, সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, সিআরআইয়ের ট্রাস্টি নসরুল হামিদ।

ছবি- সংগৃহীত

পিপলু খান নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটি এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে। পৃথিবীর বহু দেশ ও চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে হাসিনা: এ ডটারস টেল। প্রামাণ্যচিত্রটির সঙ্গীতায়োজন করেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র, সিনেমাটোগ্রাফিতে সাদিক আহমেদ, সম্পাদনা করেছেন নবনীতা সেন।

ইত্তেফাক/এমএএম