বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জেলা পরিষদ নির্বাচন

২৪ জেলায় বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করল তৃণমূল আওয়ামী লীগ

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২২, ০০:৩৫

আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার করেছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। ৬১ জেলা পরিষদের মধ্যে ২৪ জেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। চেয়ারম্যান পদে ২৬টি জেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২৪ জেলা আওয়ামী লীগ বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আবার কিছু জেলায় বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।

এদিকে বিদ্রোহীদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার এক্তিয়ার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের। আগামী ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক হতে পারে। এই বৈঠকে বিদ্রোহীদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থাকবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলায় বিদ্রোহীদের দলের সর্বস্তরের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটাকে দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত তৃণমূলকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক জেলা আওয়ামী লীগ বহিষ্কার করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, দল করতে হলে দলের সিদ্ধান্ত সবার মেনে চলতে হবে। প্রসঙ্গত, প্রথমে ৪২ জেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনা মেনে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন ১৮ জন বিদ্রোহী। অন্যদিকে গত নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তকে অমান্য করায় বিদ্রোহের শাস্তি পেয়েছেন ৯ জন জেলা পরিষদ প্রশাসক। এবার তারা আওয়ামী লীগের মনোনয়নই পাননি। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাকে বিদ্রোহী প্রার্থী বলে আওয়ামী লীগ। এবার ৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ৫০০ জন। ৯ সেপ্টেম্বর তাদের মধ্য থেকে দল সমর্থিত একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে দলটি। এর মধ্য থেকে ৩১ জেলায় নতুন মুখ আনা হয়।

শেরপুরে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শহরের মাধবপুর এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন ও উপদপ্তর সম্পাদক বিনয় কুমার সাহা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হুমায়ুন কবীরকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ঐ সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান। এতে জেলা কমিটির ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫৪ জন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় শেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগসমর্থিত একক প্রার্থী হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পাল। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর। এর মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দলের গঠনতন্ত্রের ৪৭ (১১) ধারা মোতাবেক তাকে (হুমায়ুন কবীর) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগসহ দলের সব স্তরের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের ঐ সিদ্ধান্তের পর দিন বুধবার দুপুরে শহরের ধরমপুর এলাকায় হুমায়ুন কবীর তার নির্বাচনি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভায় তার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক ও দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে যদি কাউকে বহিষ্কার করার প্রয়োজন হয়, তাহলে বিষয়টি কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠাতে হবে। কাউকে বহিষ্কার করার এক্তিয়ার একমাত্র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের, জেলা কমিটির নয়।

রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছাদ্দেক হোসেন বাবলুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখানে দলসমর্থিত একক প্রার্থী হলেন—জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আহমেদ। জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা মোছাদ্দেক হোসেন বাবলুকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করলেও তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। সুনামগঞ্জে এবারও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট। গত নির্বাচনে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগ এবার তাকে বহিষ্কার করে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। সেই দলটির নেতাকর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলায় রাখতে না পারলে সেটির নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে। দল মনোনীত/সমর্থিত প্রার্থীর বিরোধিতা করা মানে দল বা দলের সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করা। আবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোয় কতটা শৃঙ্খলা আছে, সেটাও ঝালাই করে নিতে পারে আওয়ামী লীগ।

 

ইত্তেফাক/ইআ