বিধিমালা না থাকায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না সড়ক পরিবহন আইন

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০০

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ জাতীয় সংসদে পাশের চার বছর পূর্ণ হলেও তা বাস্তবায়নে বিধিমালা তৈরি হয়নি। এই আইনের বিধিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে রোড সেইফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ। কোয়ালিশনের নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিধিমালায় আইনের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে বলা থাকে। সে কারণে বিধিমালা ছাড়া আইনটি কার্যকর হচ্ছে না। ফলে সড়কে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না শৃঙ্খলা, বাড়ছে মৃত্যু। 

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে রোড সেইফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ। লিখিত বক্তব্যে ব্র্যাকের রোড সেইফটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম খালিদ মাহমুদ বলেন, এই আইনের কিছু সরল দিক থাকলেও এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো—আইনটিতে হেলমেট পরিধানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এর মানদণ্ড ও ব্যবহারবিধি অনুপস্থিত। আইনে গতিসীমা লঙ্ঘনে শাস্তির বিধান বর্ণিত থাকলেও গতিসীমা নির্ধারণ, এর বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা সন্নিবেশিত হয়নি। যা বাস্তবায়ন অযোগ্য। এছাড়া যাত্রীদের সিটবেল্ট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা ও শিশুদের ক্ষেত্রে চাইল্ড রেস্ট্রেইন্ট বা শিশুদের জন্য নিরাপদ বা সুরক্ষিত আসন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আইনটিতে সংযোজন করা হয়নি।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্বব্যাপী মানুষের নিহত ও আহত হওয়ার অন্যতম কারণ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেইফটি ২০১৮-এর তথ্য মতে, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ ৩৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়। বিশ্বব্যাপী শতকরা ৯০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। যার সংখ্যা উন্নত দেশগুলোর তুলনায় তিন গুণ। সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নিরাপদ সড়ক চাই-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমরা বেসরকারি সংগঠন সড়ক দুর্ঘটনার যে তথ্যগুলো সমন্বয় করে দিই তাতে ভিন্নতা হওয়ার কারণ রয়েছে।  আমরা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর  থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা উপস্থাপন করি। এই তথ্য জানানোর কথা সরকারের। কারণ সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই এর প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। ’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মানুষের মৃত্যু, পঙ্গুত্ব ও অসুস্থতা এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি লাঘবের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এবং এর সদস্যভুক্ত প্রায় প্রতিটি দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের উদ্যোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা শতকরা ৫০ শতাংশ কমানোর জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩.৬ অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা এবং গ্লোবাল প্ল্যান ফর সেকেন্ড ডিকেড অব অ্যাকশন ফর রোড সেইফটি ২০২১-২০৩০ নিশ্চিত করতে কার্যকর কর্মপন্থা নির্ধারণ করে সেগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কোয়ালিশন সদস্য সংস্থা নিরাপদ সড়ক চাই-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

উপস্থিত ছিলেন, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিবিউটরের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. শরিফুল আলম, কোয়ালিশনের সদস্য সংস্থার পক্ষ থেকে ব্র্যাকের রোড সেইফটি প্রোগ্রাম পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন, বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিচার্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. হাদিউজ্জামান, বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী এ এইচ এম বজলুর রহমান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর রেজওয়ান নবীন, ইমপ্রেসিভ কমিউনিকেশনস লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিবুজ্জামান প্রমুখ।

 

ইত্তেফাক/ইআ