৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও চিকিৎসায় কাজ করবে ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৫:১১

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ৬০টি ‘পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স অ্যাম্বুলেন্স’ উদ্বোধন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর দ্রুত সাড়া দিতে হাইওয়ে পুলিশের কাছে ৮০টি মোটরসাইকেল হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে এ সেবার উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় এ সেবা চালু করা হচ্ছে। 

উদ্বোধনের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে তিনটি করিডরে ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স বেসিক লাইফ সাপোর্ট হিসেবে মোতায়েন থাকবে। করিডরগুলো হলো জয়দেবপুর থেকে রাজশাহী ২২৭ কিলোমিটার, জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ ১০০ কিলোমিটার এবং হাটিকুমরুল থেকে বগুড়া হয়ে রংপুর ১৭০ কিলোমিটার।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর একটি অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে। সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা এ সেবা চালু থাকবে।

সভায় জানানো হয়, একটি কেন্দ্রীয় কল সেন্টারের মাধ্যমে পুরো সেবাটি পরিচালিত হবে। দুর্ঘটনার খবর জানিয়ে নির্ধারিত হটলাইনে ফোন এলে অপারেটর দুর্ঘটনাস্থল, দুর্ঘটনার ধরন এবং আহত ব্যক্তির সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য নেবেন। এরপর নিকটবর্তী প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক, অ্যাম্বুলেন্স চালক, চিকিৎসা সহকারী ও তত্ত্বাবধায়কের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।

স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করবেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিকটস্থ সাইট অফিস থেকে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হবে। প্রয়োজন হলে কল সেন্টার ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করবে।

প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের নিবন্ধিত তিনজন করে স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ আট ঘণ্টার পালায় দায়িত্ব পালন করবেন। এর ফলে সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।

অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগের সময়টুকু কাজে লাগাতে নির্বাচিত করিডরে প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ মিটার অন্তর দুজন করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবককে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করবেন। প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবককে দেওয়া হবে প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স ও পরিচিতিমূলক পোশাক।

আলোচনা সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সড়ক পরিবহন, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য এই তিন মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি চালকদের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ সড়কের জন্য একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ আইন প্রণয়নের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন স্ক্র্যাপ ও পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ বাজার সরানো, সড়কের সংযোগস্থল ও মার্কিং উন্নত করা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রমা সেন্টার সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের পরিচালক এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এসজে