বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দীপঙ্কর চক্রবর্তী স্মৃতিপদক পেলেন ৩ সাংবাদিক

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:৫৪

সাংবাদিকতায় দীপঙ্কর চক্রবর্তী স্মৃতিপদক পেলেন বগুড়ায় কর্মরত তিন সাংবাদিক। বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিইউজে) বিগত ৪বছর ধরে এই স্মৃতিপদক প্রদান করছে। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য এবার দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম নয়ন, দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার মিলন রহমান ও দৈনিক কালের কণ্ঠের ফটো সাংবাদিক ঠান্ডাকে স্মৃতিপদক প্রদান করা হয়। 

রবিবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের ১৮ বছর পূর্তিতে স্মরণ সভা ও স্মৃতিপদক প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আমজাদ হোসেন মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এই পদক বিতরণ করেন বগুড়া-৫ আসনের আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য মো. হাবিবর রহমান।  

বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জে এম রউফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) উজ্জল কুমার ঘোষ, দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য্য শংকর, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম নয়ন ও প্রয়াত সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর ছোট ছেলে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী। 

স্মরণ সভায় সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেই সঙ্গে সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য ১৮ বছরেও উন্মোচন না হওয়ায় বক্তারা হতাশা প্রকাশ করেন।

২০০৪ সালের ২ অক্টোবর সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী নিজ কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় খুন হন। সেসময় তিনি বগুড়া থেকে প্রকাশিত দুর্জয় বাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি ছিলেন। ওই ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে পার্থ সারথী চক্রবর্তী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই তা নিয়ে লুকোচুরি শুরু হয়। স্থানীয় পুলিশ থেকে ডিবি, সেখান থেকে সিআইডি হয়ে আবারও মামলার তদন্তভার যায় ডিবির হাতে। এরই মাঝে তিন দফা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। 

বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে মামলা ঘুরে ডিবিতে আসার পর ২০১৭ সালের ৭ মার্চ বগুড়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী। তাদের হাতে গ্রেপ্তার জঙ্গি রাজীব গান্ধী ৬ মার্চ বগুড়ার বিচারিক হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে রাজীব নিজেসহ চার জঙ্গি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে। অপর তিন জঙ্গি হলো সারওয়ার জাহান মানিক, সানাউল্লাহ ও নুরুল্লাহ। পরে তাদের নামে পুলিশ অভিযোগ পত্র দাখিল করে। ওই হত্যাকান্ডের পর থেকেই বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়ন নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিগত ২০১৯ সাল থেকে স্মৃতিপদক প্রদান করা হচ্ছে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি