র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন বলেছেন, ‘র্যাব দেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে আস্থা, নির্ভরতা, নিরাপত্তা ও ভালোবাসার প্রতীক। অন্যদিকে যারা দেশের অপশক্তি, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি তাদের কাছে আতঙ্কের প্রতীক। বিধিবিধান ও প্রচলিত আইন মেনেই কাজ করছে র্যাব।’
গতকাল সোমবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে র্যাবের মহাপরিচালক এসব কথা বলেন। গত শুক্রবার বিকালে র্যাব মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এম খুরশীদ হোসেন। তিনি ১২তম বিসিএস ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অরাজকতা ও নাশকতা প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, র্যাব ফোর্সের প্রতিটি সদস্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ বুকে ধারণ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত র্যাব ২০০৪ সালে স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অংশ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠার পর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও স্ব স্ব এলাকায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ শুরু করে র্যাব।
র্যাব দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে জঙ্গি সংগঠন জেএমবি তাদের শক্তি জানান দেওয়ার পরপরই মাঠে নামেন র্যাব সদস্যরা। এরপর গ্রেফতার করা হয় জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই, সামরিক শাখার প্রধান আতাউর রহমান সানিসহ শতশত জঙ্গিকে। এছাড়া গুলশানের হলিআর্টিসানে জঙ্গি হামলার পর র্যাব অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়। র্যাব সদর দপ্তর জানায়, সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযান চালাতে গিয়ে এ পর্যন্ত র্যাবের ৩০ জন সদস্য শহিদ হয়েছেন।
তাছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে বাহিনীটি। দেশের বিশেষ দিনগুলোতেও তাদের নিরাপত্তা দিতে দেখা যায়। সম্প্রতি ঝালকাঠিতে লঞ্চে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সেখানে গুরুতর দগ্ধদের র্যাবের হেলিকপ্টারে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় আনা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে র্যাবের কাছে জঙ্গি ও জলদস্যু মিলিয়ে মোট ৪২১ জন অপরাধী আত্মসমর্পণ করে। তারা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। র্যাব নিজস্ব অর্থায়নে তাদের পুনর্বাসন ভূমিকা রেখেছে। র্যাবের এই ভূমিকাকে মানবিক বিচারেও এগিয়ে রাখছেন মানবাধিকার বিষয়ে সচেষ্টরা।
২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ক্যাসিনো অভিযানে বড় বড় রাঘব বোয়ালদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনে বাহিনীটি। যাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নগদ কোটি কোটি টাকা, স্বর্ণালংকার, মাদক, অস্ত্র ও ক্যাসিনোর সরঞ্জাম। ‘রিপোর্ট টু র্যাব’ মোবাইল অ্যাপস সন্ত্রাস, মাদকসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানাতে মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসী তথ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরাধ, নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য, খুন, অপহরণ, মাদক, ডাকাতির বিষয়ে যে কেউ সহজে জানাতে পারে। র্যাব মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘আমরা বন্ধুর মতো সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।
আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য এই দেশকে জঙ্গিমুক্ত করা; সেই সঙ্গে দেশ থেকে মাদক, অস্ত্রকারবারি ও সন্ত্রাস মুক্ত করা। এই উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা সচেষ্টভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের বেশকিছু ঈর্ষণীয় সাফল্য রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাস দমন করে শান্তি ফিরিয়ে আনা ও আরেকটি হলো দস্যুমুক্ত সুন্দরবন।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে চলছে অকুতোভয় র্যাব ফোর্সেস।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত বছরগুলোতে দেশপ্রেমে বলিয়ান হয়ে পেশাদারিত্ব, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে; আগামীতেও এটা অব্যাহত থাকবে। যাতে জনগণের আস্থা ধরে রাখা যায়।’ এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিশ্চিত করতে বিগত দেড় যুগের মতো ভবিষ্যতেও দেশ ও দেশের জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিটি পদক্ষেপ সততা ও সাহসের সঙ্গে গ্রহণে র্যাব বদ্ধপরিকর।’
