শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

উৎসবের উদযাপন হোক একসাথে, কানেক্টেড থেকে

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ২০:৩২

রাজশাহীর (তৎকালীন গৌড়) পৌরশহর তাহেরপুরে ১৫শ’ সালের শেষদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আড়ম্বরপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপন করেন রাজা কংস নারায়ণ। ইতিহাসবিদ রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলপত্র থেকে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিষয়টি তার লেখায় উল্লেখ করেন। 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শক্তির দেবী দুর্গার অমঙ্গলের বিরুদ্ধে জয়কে স্মরণ করতে এই সমৃদ্ধ ও বর্ণিল উৎসব উদযাপন করা হয়। কালের বিবর্তনে বর্ণিল এই উৎসব এখন বাংলার সীমার ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে নাচ-গান, উপবাস-ভোজন, আলোকসজ্জা এবং মন্দিরে-মণ্ডপে আনন্দোৎসবের মাধ্যমে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। শারদীয় এ উৎসবের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেবী-প্রতিমাকে পানিতে বিসর্জন দেয়া হয়। এছাড়াও, দেশের কোথাও কোথাও দেবীর সম্মানে বিভিন্ন রকম আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে আয়োজন করা হয় কুমারী পূজার। 

দুর্গা পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব হলেও, বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ-অঞ্চল নির্বিশেষে বর্ণিল এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও, ক্রমেই সমাজের সকল স্তরের মানুষের আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষে পরিণত হয়েছে শারদীয় এই পূজা। 

পূজার আয়োজন সম্পর্কে সংক্ষেপে বলতে গেলে, অশুভ শক্তির বিপক্ষে দেবী দুর্গার মঙ্গলের জয়কে উদযাপন করতেই এই আয়োজন। অনেক মানুষের জন্য পূজার এই ছুটি পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সহ অনেক মানুষের সাথে দেখা হওয়ার উপলক্ষ হিসেবে আসে। যদিও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ একজনের কাছ থেকে আরেকজন দূরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে এখন চাইলেও আর একসাথে উৎসবে অংশ নেয়া হয়ে ওঠে না। লাইফস্টাইল আধুনিক করার পাশাপাশি মানুষ এখন ছড়িয়ে গেছে বিশ্বের নানান প্রান্তে। বিশেষ করে কাজ ও জীবিকার প্রয়োজনে যারা নিজের বাড়ি থেকে অনেক দূরে বা প্রবাসে থাকছেন তাদের জন্য পরিবারের সাথে থেকে উৎসব উপলক্ষে একত্রিত হওয়াটাও অনেক সময় বিলাসিতা হয়ে যায়। 

দূরত্ব ঘুচিয়ে সবাইকে কানেক্ট করতে বিশ্ব জুড়ে অনেকগুলো প্ল্যাটফর্ম কাজ করে যাচ্ছে। দূরত্ব বা দেশের সীমানা নির্বিশেষে সবার মাঝে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে; এ রকম একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইনস্ট্যান্ট অডিও-ভিডিও কল ও মেসেজিং অ্যাপ ইমো’র কথা। ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে এখন ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং করা যাচ্ছে আরও সহজে। ফলে, উন্নত ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের এই প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের মাঝে স্টিকার, ইমোজি, স্টোরি ইত্যাদি আকর্ষণীয় ফিচারের মাধ্যমে এখন উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে। 

অ্যাপটির ভিডিও কল ব্যবহার করে এখন পরিবার ও বন্ধুদের সাথে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই যোগাযোগ করা যায়। পরিবার, সমাজ ও নিজের শেকড়ের কাছাকাছি থাকার সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা ভিডিও কলে, এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পাবেন কাছে থাকার অনুভূতি। প্ল্যাটফর্মটির এইচডি ভিডিও কোয়ালিটি, বিভিন্ন ভাষা ও ডেটা-সাশ্রয়ী সুবিধা এটিকে উৎসব উদযাপনের সেরা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিতি এনে দিয়েছে। তার ওপর, প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন রকম যুগান্তকারী ফিচার দেশের সীমানা নির্বিশেষে মানুষের সার্বক্ষণিক যোগাযোগকে করেছে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময়। 

এই অ্যাপটির মতো এরকম অনেক ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ মানুষের মাঝে যোগাযোগকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন উৎসব-উদযাপনে মানুষকে একসাথে করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে যাচ্ছে এসব প্ল্যাটফর্ম। ইন্টারনেট-নির্ভর এসব অ্যাপ বিভিন্ন উৎসব উদযাপন করতে মানুষের সাথে মানুষের দূরত্বকে কমিয়ে এনে যোগাযোগকে করেছে আরও সহজ।   

এই বছরের দুর্গা পূজায়, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের এই সুযোগকে কাজে লাগান। যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমিয়ে এনে আপনার পছন্দের মানুষ, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের কাছাকাছি থাকুন – দুর্গা পূজার আনন্দ উদযাপন করুন!

ইত্তেফাক/এএইচপি