শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অধস্তন অনেক আদালতে বিচারকাজ ব্যাহত

মোমবাতির আলোয় বিচারকাজ ২ বিচারপতির

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৫:১৭

ছিল না বিদ্যুৎ। মোমবাতির আলোয় চলল বিচারকাজ। প্রায় দেড় ঘণ্টা চলা সেই বিচারকাজে শুনানি হলো তিন মামলার। এর মধ্যে দুটি মামলা নির্বাচনসংক্রান্ত। বাকি মামলাটি ইত্তেফাকের প্রবীণ আলোকচিত্র সাংবাদিক আফতাব আহমেদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির ডেথ রেফারেন্সের। 

প্রতীকী ছবি (সংগৃহীত)

বিদ্যুৎ নেই, এমন অজুহাতে আদালতের কর্মঘণ্টা নষ্ট না করে মোমবাতির আলোয় বিচারকাজ পরিচালনা করে প্রশংসায় ভাসছেন উচ্চ আদালতের দুই বিচারপতি। এই দুই বিচারক হলেন, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ। তবে দুই বিচারপতি বিচারকাজ পরিচালনা করতে পারলেও দেশের অনেক অধস্তন আদালতে বিচারকাজ পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় এবং তীব্র গরমে এজলাস ত্যাগ করেন অধস্তন আদালতের বিচারক ও আইনজীবীরা। তবে যেসব কোর্টে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ছিল সেখানে বিচারকাজ চলেছে।

প্রতীকী ছবি (সংগৃহীত)

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে বিচারকাজ চলে। প্রথম ধাপে বিচারকাজ চলার পর দুপুরের বিরতিতে যান তারা। বিরতির পর দেড়টায় এজলাসে এসে পুনরায় বিচারকাজ শুরু করেন। ১৫ মিনিট বিচারকাজ চলার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। অন্ধকার অবস্থায় এজলাসে বসে কোর্ট স্টাফদেরকে মোমবাতি আনার নির্দেশ দেন। এরপরই দুই বিচারপতির সামনে প্রজ্বলন করা হয় দুটি মোমবাতি। সেই মোমবাতির আলোয় শুনানি হলো তিনটি মামলার। আর আইনজীবীরা ডায়াসে থেকে মোবাইলের টর্চের আলোয় নথি দেখে শুনানিতে অংশ নিলেন। এভাবে কর্ম-ঘণ্টা নষ্ট না করে বিচারকাজ সম্পন্ন করলেন হাইকোর্টের দুই বিচারপতি।  সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলা পরিচালনাকারী ও উপস্থিত আইনজীবীরা দুই বিচারপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারান্নুম রাবেয়া মিতি বলেন, এটা খুবই ভালো দৃষ্টান্ত। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে যেতে পারতেন। কিন্তু আদালতের কর্মঘণ্টা নষ্ট না করে দুই বিচারপতি মোমবাতির আলোয় বিচারকাজ পরিচালনা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত

মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, বিদ্যুত্হীন অবস্থায় অনেক কষ্ট স্বীকার করে দুজন বিচারপতি দীর্ঘ সময় বিচারকাজ পরিচালনা করেছেন। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রসঙ্গত জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা দুপুর থেকে বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ে। এতে দেশের বিভিন্ন আদালতের বিচারকাজ পরিচালনা করতে সমস্যায় পড়তে হয় বিচারকদের।

ইত্তেফাক/এমএএম