রাজধানীর কাফরুল থানাধীন কচুক্ষেত এলাকার আহমেদীয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ৩শ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকরা টাকা ফেরত চেয়ে বুধবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) সংবাদ সম্মেলন ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
ভূক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ইব্রাহিমপুরের ৮২/৪ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলায় আহমেদীয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স এমসিএস লিমিটেডের অফিস। এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির আহমেদ এবং মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানটিতে আমরা ১১শত গ্রাহক প্রায় ৩শ কোটি টাকা আমানত রেখেছি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আমাদের আমানতের লাভ্যাংশ দিচ্ছে না। আমানতের টাকা ফেরত চাইলেও তারা দিচ্ছে না। উল্টো তারা অফিস বন্ধ করে পালিয়েছে। আমানতকারীদের মধ্যে দিনমজুর, রিকশাচালক, অবসর প্রাপ্ত সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীর সদস্য, পুলিশ সদস্য রয়েছেন। বিভিন্ন সরকারি চাকরিজীবী অসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের পেনশন গ্র্যাচুয়েটির টাকা বিভিন্ন মেয়াদে এফডিআর করেছেন। সেই জমাকৃত অর্থ দ্বারা আহমেদীয়া এপার্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপার (প্রাইভেট) লি., আহমেদীয়া টাওয়ার, ইউরো স্টার মডেল টাউন, ইউরো স্টার টাওয়ার, ইউরো স্টার অটোগ্যাস স্টোপ ফ্যাক্টরি, ইউ ফ্যাক্টরি, ইউরো স্টার হোম এ্যাপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরি ইত্যাদি নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এটির কর্পোরেট অফিস ২৮/এ-১ ২য় তলা, পশ্চিম মেইন রোড, পুরাতন ডিওএইচএস, বনানী, ঢাকা।
ক্র্যাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সস্মেলনে ভূক্তভোগী গ্রাহকরা বলেন, তিন বছর ধরে আহমেদীয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স এমসিএম পি গ্রাহকের কোনো প্রকার লভ্যাংশ ও মেয়াদ এফডিআর এর টাকা পরিশোধ, এমনকি মূল জমাকৃত টাকাও ফেরত প্রদান করছে না। পরবর্তীতে তারা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে পালিয়ে গেছে। আমানতের টাকা না পেয়ে আজ আমরা পথে বসেছি। আমাদের ঘরে চুলা জ্বলছে না। আত্মীয়-স্বজনের কাছে ধার করে সংসার চালাচ্ছি। অবিলম্বে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতারকদের গ্রেফতার করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
