‘প্রতিটি মাধ্যমেরই নিজস্ব জায়গা আছে’

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৫:১৩

চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেতা আব্দুন নূর সজল। পাশাপাশি বেছে বেছে নাটকেও অভিনয় করছেন তিনি। নিজের অভিনয় পরিকল্পনা, নাটক, চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজের বর্তমান অবস্থাসহ ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—

সামনের মাসে দুটি ওয়েব সিরিজের কাজ শুরু করব। বর্তমানে সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু এখনই সিরিজ দুটির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাচ্ছি না।

দীর্ঘদিন নতুন সিনেমা মুক্তির খবরে নেই সজল। কিন্তু কেন?

দেখুন, ৪-৫টি সিনেমার কাজ এরইমধ্যে শেষ করেছি। তবে মুক্তির বিষয়টি তো নির্মাতা-প্রযোজকদের হাতে। তারাই এ নিয়ে ভালো বলতে পারবেন। তবে আশা করছি শিগগিরই সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে আসবে।

আব্দুন নূর সজল

অনেকেই বলছেন, চলচ্চিত্রে সুদিনের আভাস দেখা যাচ্ছে। আপনি কেমন দেখছেন?

অবশ্যই, চলচ্চিত্রে সুবাতাস বইছে। বিশেষ করে ‘পরাণ’ এবং ‘হাওয়া’ দর্শক-নির্মাতা-শিল্পীদের মাঝে অন্যরকম জায়গা তৈরি করেছে। যখন হলে গিয়ে দর্শক আমাদের সিনেমার প্রশংসা করছেন তখন ভীষণ ভালোলাগা কাজ করে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সামনে নানা ধরনের কাজ আমরা দেখতে পাবো। তবে দর্শকদের বলবো, তারা যেভাবে এগিয়ে এসেছেন সেই ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। কারণ সবাই ভালো ভালো কাজের চেষ্টা করছেন। আমরা যেন সিনেমা না দেখেই নেতিবাচক মন্তব্য না করি। সবাই সবার পাশে থাকি।

ইদানিং ওটিটির কাজগুলো বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। আপনারাও মাধ্যমটির দিকে ঝুঁকছেন। এতে টিভি নাটক আড়ালে পড়ে যাচ্ছে না?

না, এই বিষয়টিতে আমি ভিন্নমত পোষণ করছি। এখন বিভিন্ন প্লাটফর্ম আসায় নানাধর্মী কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তবে আমি মনে করি, প্রতিটি মাধ্যমেরই নিজেস্ব জায়গা আছে। যার যার নিয়মের মাঝেই তারা চলবে। টিভি নাটকের কথা যদি আসে তাহলে বলবো, ইউটিউব আসায় টিভি নাটকে যে ভিউ বাণিজ্যটা শুরু হয়েছে সেই জায়গা থেকে সবার একটু সুচিন্তিত কাজ করা দরকার। আমাদের নাটক সবাইকে নিয়ে দেখার যে ঐতিহ্য আছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে নির্মাণ করা উচিত।

আব্দুন নূর সজল

নির্মাতা-শিল্পীরা অনেকেই বলছেন ওটিটি কাজের স্বাধীনতা দিয়েছে। অন্যদিকে সম্প্রতি নাটক ও সিনেমার ওপর মামলাও হয়েছিল। এতে নির্মাতা-শিল্পীদের মাঝে স্বাধীনতা খর্বের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে কি-না?

প্রতিটি মাধ্যমেই কাজের সময় বিভিন্ন ধরনের কথোপকথন হবেই। নানা প্রতিকূলতা দেখা দেবে। যদি আমরা মনে করি, এই কাজটি ভালো, আমাদের সংস্কৃতির জন্য কাজটি দরকার তাহলে যেন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাই। এতে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিরই লাভ হবে। যদি দেশের একটি কাজ বিশ্বের দরবারে জায়গা তৈরি করে তাহলে তো আমাদের সবার জন্য সেটা গর্বের। তাই কাউকে টেনে নিচে না নামিয়ে ভালো কাজে উত্সাহ দেওয়া বিকল্প নেই।

দীর্ঘদিন ধরেই নাটকে কম করছেন। এর বিশেষ কোনো কারণ আছে কী?

হ্যাঁ, আসলে বিগত ৪-৫ বছর ধরেই নাটক কম করছি। তবে একেবারেই করছি না তা কিন্তু নয়। আসলে একটা সময় পর এসে আমার মনে হয়েছিল, আমি এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই যেখানে কোনো না কোনো বার্তা আছে। পুরো নাটকে বার্তা থাকবে বিষয়টি তেমনও না। কারণ আমি নিজের যোগ্যতার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা অনেক বেশি পেয়েছি। এত ভালোবাসা পেলে দায়বদ্ধতাও বেড়ে যায়। তাই আমার মনে হয়েছে, যাদের কাজ থেকে এত ভালোবাসা পেলাম তাদেরও ভালো কিছু দেওয়ার দায় আমার রয়েছে। যে কারণে এখন সংখ্যা নয়, বার্তা নির্ভর কাজ বছরের দু-চারটা হলেও সেগুলোতে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করি।

ইত্তেফাক/বিএএফ