এবারের রসায়ন বিদ্যায় নোবেল প্রাইজের মূল বিষয় ক্লিক কেমিস্ট্রি। এ বছর এ পুরস্কার পেয়েছেন আমেরিকায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রির প্রফেসর ক্যারোলিন বার্তোজ্জি, ক্রিপস রিসার্চের ব্যারি শার্পলেস এবং ডেনমার্কে কোপেনহাগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্টেন মেলডাল। এরমধ্যে শার্পলেসের এটি দ্বিতীয় নোবেল পুরস্কার। পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি সুইডিশ ক্রোনর (প্রায় ১০ লক্ষ ডলার)। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উনবিংশ শতাব্দীতে এসে রসায়ন শুধু পরিণত হয়েছে বিক্রিয়ার বিজ্ঞানে। নানা পদার্থের পরমাণু থেকে অণু তৈরি করা। বিক্রিয়া মানে অণু-পরমাণু মিলিয়ে নতুন পদার্থ তৈরি করার নতুন কৌশলের নামই ক্লিক কেমিস্ট্রি।
আমাদের চারপাশে অনেক জটিল অণু তৈরি হয়। তাদের মধ্যে এক বিস্ময় হলো জীবদেহের অণু। জটিল এসব অণু দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজ্ঞানীদের এ রকম নতুন অণু তৈরি করার ইচ্ছা জাগে।
২০০০ সালে শার্পলেস ক্লিক কেমিস্ট্রি আবিষ্কার এবং নামকরণ করেন। ইংরেজিতে একে স্টারটেড দ্য স্নোবল রোলিং বলা হয়। ক্লিক কেমিস্ট্রির ফলে বিভিন্ন অণু-পরমাণুর জোড়া দেওয়া সহজ হয়েছে।
শার্পলেস আর মেলডাল আলাদাভাবে ক্লিক কেমিস্ট্রি প্রয়োগ করে অ্যাজ়াইড এবং অ্যালকাইন অণু জোড়া দিয়েছিলেন। এখানে তামার পরমাণুকে অনুঘটক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অ্যাজ়াইড হলো তিন পরমাণু নাইট্রোজেনওয়ালা অণু। অ্যালকাইন হল বিভিন্ন ধরনের হাইড্রো-কার্বন। তাদের মধ্যে সাধারণত যোগাযোগ হয় না। কিন্তু ক্লিক কেমিস্ট্রি প্রয়োগে তা করা সম্ভব হয়। এই পদ্ধতি প্রয়োগের নানা ব্যবহার আছে। যেমন, ওষুধ প্রস্তুতে, প্রাণের মূলে অণু ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) মানচিত্র তৈরি করতে।
বার্তোজ্জি ক্লিক কেমিস্ট্রি প্রয়োগে রসায়ন বিদ্যার নতুন যুগ নিয়ে এসেছেন। তিনি মূলত জীবদেহের অণু নিয়ে গবেষণা করেন। জীবদেহের অণু নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বার্তোজ্জি দেখেন, জীবদেহের কোষগুলো তামার পরমাণু সহ্য করতে পারে না। কিন্তু জীবদেহের কোষের আশেপাশের অণুগুলোর জোড়া দেওয়ার দরকার। ক্লিক কেমিস্ট্রি প্রয়োগ করে বার্তোজ্জি এমন কৌশল আবিষ্কার করেন, যাতে করে তামার পরমাণুর প্রয়োজন ছাড়াই ওই যোগাযোগের কাজটা হয়ে যায়। এটাকে এখন প্রয়োগ করা হচ্ছে ক্যানসারের মতো রোগের ওষুধ প্রস্তুতে।
