বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাশিয়ার অর্থনীতিতে আরো চাপ আসছে: পুতিন

জাপোরিজিয়ায় পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে রাশিয়া: জেলেনস্কি

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৩৪

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, তার দেশের অর্থনীতিতে আরো চাপ আসছে। তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা অর্থনীতিতে চাপ আরো বাড়াবে। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পুতিন এই দাবি করেন। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, জাপোরিঝিয়ায় হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। তারা পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে।

পুতিন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি হয়তো স্থিতিশীল। একই সময়ে আমাদের বুঝতে হবে যে নিষেধাজ্ঞার চাপ রাশিয়ার অর্থনীতিতে কেবল চাপই বাড়াবে। ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার ওপর অপ্রত্যাশিত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর ফলে অর্থনীতি ব্যাপক চাপে পড়েছে। বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা হবে বলে প্রতিজ্ঞা করেন। ইউক্রেন বলেছে, তারা লুহানস্ক ও খেরসনের বেশ কিছু গ্রাম পুনর্নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং সম্প্রতি দোনেেস্ক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়া যেসব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, সেসবের আবার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো অসংগতি নেই। তারা চিরদিনের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে থাকবে। তারা ফিরে আসবে।’

রাশিয়ায় শিক্ষক দিবসে পুতিন এক ভাষণে বলেন, তিনি ‘শান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলোতে উন্নত করবেন’। কিন্তু স্টেট ডুমা ডিফেন্স কমিটির চেয়ারম্যান আন্দ্রে কারটোপোলভ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, রাশিয়ার উচিত হবে যুদ্ধক্ষেত্রে কী ঘটছে সেটা নিয়ে মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করা। তিনি আরো বলেন, রাশিয়ার মানুষ বোকা না।

ইউক্রেনের বাহিনী দক্ষিণ ও পূর্বে উভয় দিকে অগ্রগতি করেছে। লুহানস্কের গভর্নর সেরহি হেইদাই বিবিসিকে বলেছেন, বুধবার ঐ এলাকার ছয়টা গ্রাম পুনর্নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পরে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের খেরসনের আরো তিনটি গ্রাম মুক্ত করেছে তারা। রাশিয়া এখনো রিজার্ভ সৈন্য নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট পুতিন একটা ডিক্রি সই করে দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিঝায়ার পরমাণু পাওয়ার প্লান্ট আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এই পরমাণুকেন্দ্র যুদ্ধের শুরু থেকে রাশিয়ার সৈন্যদের দখলে ছিল। রাশিয়া বলছে, ইউরোপের সবচেয়ে বড় পরমাণুকেন্দ্রটি এখন একটি নতুন কোম্পানি চালাবে। কিন্তু ইউক্রেনের নিউক্লিয়ার অপারেটররা এটাকে নাকচ করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত মূল্যহীন। জাতিসংঘের পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষক দল আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, তিনি দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনায় বসবেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে। অন্যদিকে মস্কোর অধিকৃত ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরে গতকাল বৃহস্পতিবার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্ডার টেলিগ্রাম পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজন নিহত এবং পাঁচজন ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে। —বিবিসি ও রয়টার্স

ইত্তেফাক/জেডএইচডি