মা ইলিশ রক্ষায় বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৭ অক্টোবর) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। এ সময় দেশের জলসীমায় বিদেশি জেলেদের অনুপ্রবেশ ঠেকাকে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিমান বাহিনী আকাশপথে টহল দিবে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
এছাড়া নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন নিবন্ধিত জেলেদেরকে জনপ্রতি ২০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, বরগুনায় মোট ৩৭ হাজার ৭০ জন নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিবন্ধিত প্রতিজন জেলে ২০ কেজি করে বিশেষ ভিজিএফ চাল পাবেন। ইতোমধ্যেই বরাদ্দ এসেছে। সামনের সপ্তাহ থেকে চাল দেওয়া শুরু হবে। নিষেধাজ্ঞার সংবাদ জানাতে আমরা বরগুনায় প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি। তারপরেও নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, জেলা প্রশাসনের বিশেষ মোবাইল টিমসহ মৎস্য বিভাগ নদী ও সাগরে অবরোধ ব্যস্তবায়নের লক্ষে পেট্রলিংও থাকবে।
তবে জেলেদের অভিযোগ, এই নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই জেলেদের সরকারি সহায়তা দেয়ার দাবি থাকলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার এ সুযোগে দেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ শিকার করবে প্রতিবেশী ভারতের জেলেরা, যা দেশের জেলে ও মৎস্য ব্যবসাকে ধ্বংস করে দেবে।
তাই ভারতের সঙ্গে মিল রেখে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞাকালীন সব জেলেদের যথাযথভাবে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বরগুনার জেলে ও ট্রলার মালিকরা।
প্রসঙ্গত, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রজনন মৌসুমকে নির্বিঘ্ন করতে সারাদেশে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এই সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিক্রি, সংরক্ষণ ও বিনিময় সবই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সারা বছর ডিম দিলেও ২২ আশ্বিন থেকে ১২ কার্তিক পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম।
