রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে থেমে থাকা একটি ট্রেনে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে নেত্রকোনা থেকে ট্রেনে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে নামার পর এ ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী ঐ কিশোরীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে, মূলহোতা পানি বিক্রেতা ইমরান এখনো পলাতক রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো সুমন, নাঈম, নাজমুল, আনোয়ার ও রোমান ওরফে কালু।
ঢাকা রেলওয়ে থানার এসআই রিয়াজ মাহমুদ জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে শুক্রবার বিকালে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে রওনা করে রাতে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসে। সেখানে ৪/৫ নম্বর প্ল্যাটফরমে বসে থাকা অবস্থায় পানি বিক্রেতা ইমরান নামে এক যুবকের সঙ্গে তার কথা হয়। সে ঐ কিশোরীকে এটা-সেটা বলে প্ল্যাটফরমের একটি বেঞ্চে শুয়ে থাকতে বলে এবং তাকে কেউ কিছু বললে তার (ইমরানের) পরিচয় জানাতে বলে। একপর্যায়ে অনেক রাত হয়ে গেলে ঐ কিশোরীকে ১ নম্বর প্ল্যাটফরমে দাঁড়িয়ে থাকা তুরাগ কমিউনিটি লোকাল ট্রেনের বগিতে শুয়ে থাকতে বলে একপাশের দরজা আটকে দেয় ইমরান। এরপর অপর পাশের একটি দরজা দিয়ে ঐ যুবকসহ আরো পাঁচ যুবক ট্রেনের কোচে প্রবেশ করে কিশোরীকে ধর্ষণ করে।
এসআই আরো জানান, রাত ১টার দিকে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যকে সেখানে দিয়ে যাতায়াত করতে দেখে তারা ভয়ে পালিয়ে যায়। তখন নিরাপত্তাকর্মীর সন্দেহ হলে তিনি উঁকি দিয়ে দেখেন, রেলের কোচের ভেতর পড়ে আছে ঐ কিশোরী। তখন থানায় খবর দেন তিনি। এরপর তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানান, রাতেই ঐ কিশোরী রেল স্টেশন এলাকা থেকে পাঁচ যুবককে শনাক্ত করার পর পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদাউস আহম্মেদ বিশ্বাস এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা করেছে। পলাতক ইমরানকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
