বাটলার-হেলস ঝড়ে অজিদের হারালো ইংল্যান্ড

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৫৩

জশ বাটলার ও অ্যালেক্স হেলসের ব্যাটিং তান্ডবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করলো ইংল্যান্ড। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অজিদের ৮ রানে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে ইংলিশরা।

উদ্বোধনী জুটিতে ৬৮ বলে রেকর্ড ১৩২ রান তোলেন বাটলার ও হেলস। তাতেই ৬ উইকেটে ২০৮ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। ২০৯ রানের টার্গেটের জবাবটা ভালোভাবে দিলেও, শেষে এসে খেই হারায় অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ২০০ রান করেই থামতে হয় ক্যাঙ্গারুদের। ডেভিড ওয়ার্নারের ৪৪ বলে ৭৩ রানের ঝড়ও বিফলে যায়।

পার্থে টস জিতে প্রথমে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। অ্যালেক্স হেলসকে নিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংস শুরু করেন ইনজুরি থেকে সুস্থ হওয়া অধিনায়ক জস বাটলার। গত আগস্টের পর ২২ গজে ফিরেই ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন বাটলার। ইনিংসের প্রথম ওভারের পুরোটা খেলে ৪টি চারে ১৬ রান তোলেন তিনি।

বাটলারের সাথে তাল মিলিয়ে পাওয়া-প্লেতে দলকে ৫৮ রান এনে দেন হেলস। বাটলার ৩২ ও হেলস ২৫ রানে ছিলেন।

ব্যক্তিগত ৩০ রানে জীবন পেয়ে নবম ওভারের চতুর্থ বলে বাউন্ডারিতে ২৫ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৬তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাটলার। ঐ ওভারেই ইংল্যান্ডের রানও ১০০ স্পর্শ করে। এরপর ১০ম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারিতে টি-টোয়েন্টিতে দশম অর্ধশতকের স্বাদ নেন হেলস। তিনি খেলেন ২৯ বল।

অবশেষে ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাটলারকে শিকার করে ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন অজি মিডিয়াম পেসার নাথান এলিস। ৮ চার আর ৪ ছক্কায় ৩২ বলে ৬৮ রান করেন বাটলার। বাটলার-হেলস জুটি থেকে আসে ৬৮ বলে ১৩২। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি। আর সব মিলিয়ে অজিদের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।

১৬তম ওভারে বিদায় নেন হেলস। অজি পেসার কেন রিচার্ডসনের শিকার হন তিনি। ১২ চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ বলে ৮৪ রান করেন হেলস।

পরের দিকের ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে না পারলে, বাটলার-হেলসের ওই শুরুর ঝড়ে দাঁড়িয়েই ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৮ রানের বড় সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি ইংল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রান। 

২০৯ রানের বিশাল টার্গেটে শুরুটা ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ১ রানেই ফিরে যান ওপেনার ক্যামেরুন গ্রিন। দ্বিতীয় উইকেটে মিচেল মার্শের সাথে ৪৪ বলে ৭১ রান তুলে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে রাখেন ওয়ার্নার। মার্শ ৩৬ রানে থামলেও, ২৮ বলে টি-টোয়েন্টিতে ২৪তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন ওয়ার্নার।

মাঝে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ১২ রানে আউট হলে, চতুর্থ উইকেটে ২৪ বলে ৫৩ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের পথে রাখেন মার্কাস স্টোয়নিস আর ওয়ার্নার। ব্যাট হাতে ১৫ বল খেলে ঝড় তুলেন স্টোয়নিস। ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৫ রান করে ফেরেন তিনি।

১৫তম ওভারে স্টোয়নিসের ফেরার ২ বল পর বিদায় নেন টিম ডেভিডও। তবে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের আশা ধরে রাখেন ওয়ার্নার।

১৭তম ওভারে ওয়ার্নাকে শিকার করে ইংল্যান্ডকে চিন্তা মুক্ত করেন পেসার মার্ক উড। ৪৪ বল খেলে ৭৩ রান করেন তিনি। ৮টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি।

ওয়ার্নার যখন ফিরেন, তখন ৩ ওভারে ৩৬ রান দরকার ছিলো অস্ট্রেলিয়ার। পরের ২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২০ রান পায় অসিরা। শেষ ওভারে জিততে ১৬ রানের সমীকরন দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়ার। উইকেটে ছিলেন ম্যাথু ওয়েড। শেষ ওভারে ওয়েড ও এলিসকে তুলে নিয়ে মাত্র ৭ রান দেন স্যাম কারান। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ২০০ রান তুলেই থেমে যায় অজিদের ইনিংস। 

অস্ট্রেলিয়াকে ৮ রানে হারিয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেলো ইংল্যান্ড। আগামী ১২ অক্টোবর সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে দুই দল।

ইত্তেফাক/এসএস