সিংগাইরে স্কুলমাঠে বাজার

সরকার হারায় রাজস্ব,  দুর্ভোগ পোহায় শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২, ০৫:০১

উপজেলার দক্ষিণ জামশা উচ্চ বিদ্যালয়ের  মাঠে বসে বাজার । ট্রাক, রিকশা ও ভ্যানসহ দোকানপাট বসার কারণে এবং ধুলাবালি আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের হইচইয়ে লেখাপড়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীদের। বাজার বসার কারণে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। হাটবাজার ইজারা দেওয়া হলেও শনিবারের পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয় না। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। তবে পশুরহাট থেকে অবৈধভাবে আদায় করা টাকা যায় প্রভাবশালী কয়েক জনের পকেটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন এখানকার একাধিক ব্যক্তি ও জামশা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী কামরুজ্জামান। 
 
বাজারের ইজারাদার এ স্কুলেরই সাবেক প্রধান শিক্ষক আবজাল হোসেন মোল্যা বলেন, ‘৮ লাখ ৬১ হাজার টাকায় তার নামে বাজার ডাক হলেও ভ্যাটসহ নেতা, অফিস, সবকিছু মিলে ১০ লাখ টাকা লেগেছে। অল্প কিছু পশু ওঠার কারণে এ হাটের ডাক হয় না। এলাকার মানুষ খাজনা কম দিতে চায়। নাম আমার হলেও সিদ্দিক মোল্যাসহ অনেকে বাজার পরিচালনায় জড়িত। স্কুলকে ৫০ হাজার টাকা দেই। সবকিছু মিলে ১ লাখ টাকা লাভ হয়। গত কোরবানিতে ৩ লাখ টাকার  লাভ হয়েছে মাত্র। হাট এলাকার, স্কুলও এলাকার। ঠকা আর জিতা কী? লাভের জন্য করি না। জমি যা দেখেন আমরা মোল্যারা দিয়েছি। তবে মোল্যাদের কিছু ঘর স্কুলের জায়গায় রয়েছে এবং প্রধান শিক্ষক ও মান্নান মাস্টারের দুটি ঘর রয়েছে।’  

অপর দিকে প্রধান শিক্ষক রফিক মোল্যার ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘আবজাল হোসেন মোল্যা স্কুলকে সোয়া লাখ টাকার মতো দিয়ে থাকেন। এছাড়া বেলা ১২টার পর বাজারে লোকজন থাকে না বলে শিক্ষার্থীদের অসুবিধে হয় না। জায়গা নেই বলে স্কুল মাঠে হাটবাজার বসে। শ্রেণিকক্ষের সামনে থেকে ধানের বাজার সরিয়ে নেওয়া হবে। স্কুলের জায়গায় ৩৪টি  দোকান ঘর রয়েছে।  প্রতি ঘর থেকে বছরে ৪ হাজার করে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ভাড়া আসে। কোনো ধরনের অনিয়ম হয় না। নিজেরাই ঘর উত্তোলন করেছে বলে তাদের ভাড়া কম ধরা হয়েছে।’  

এদিকে জানা গেছে, স্কুলকে বছরে যারা মাত্র ৪ হাজার টাকা ঘর ভাড়া দেন, তারাই অন্য ব্যক্তির কাছে তা ভাড়া দিয়ে মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করেন। মুদি ব্যবসায়ী খোরসেদ মেম্বার বলেন, ‘জায়গা স্কুলের হলেও বছরে ৩৭ হাজার টাকা দিয়ে হেড মাস্টারের কাছ থেকে এ দোকান ভাড়া নিয়েছি। হেড মাস্টার স্কুলকে ভাড়া দেন কি না তা আমার জানা নেই।’ 

ওষুধ ব্যবসায়ী আবুল বাসার ও ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী মামুন বলেন, তাদের ঘরও স্কুলের জায়গায়। জনৈক হেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৪ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাড়া নিয়েছেন তারা। হেলাল স্কুলকে ভাড়া দেন বছরে ৪ হাজার টাকা। বাসারসহ অন্য দোকানদাররা বলেন, এভাবেই নামে-বেনামে অনেকেই স্কুলের জায়গা নিয়েছেন। ভাড়ার টাকা নিয়মমাফিক ফান্ডে জমা হয় না। এছাড়া কোরবানি ঈদের সময় পশুর হাটে আয় হয় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। যা কয়েক জনে ভাগবাঁটোয়ারা করে নেন। একই কথা বললেন, স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ লাল মিয়া। 

স্কুল  কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ইদানীং রসিদ দেওয়া হলেও আগের বছরগুলোর ভাড়া নিজ পকেটে চলে গেছে। এ ব্যাপারে তাদের কোনো মতামত নেওয়া হয় না। সবকিছু মোল্যারা নিয়ন্ত্রণ করেন। অপরদিকে আরেক সদস্য সিদ্দিক মোল্যা বলেন, ‘নিজেরা ঘর উত্তোলন করেছে বলেই তাদের এই কম ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তবে ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে মিটিংয়ে বসব।’ এদিকে প্রধান শিক্ষক বছরে ৪ হাজার টাকা ভাড়া পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও সিদ্দিক মোল্যা বলেন, ২

ইত্তেফাক/ইআ