স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২, ১২:৫৬

ইরানে পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহশা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলছে বিক্ষোভ। এর মধ্যে রোববার (৯ অক্টোবর) স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী লাইসেন্স প্লেটবিহীন ভ্যান নিয়ে স্কুলে ঢুকেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরে এসব তথ্য জানা যায়। এদিকে ইরানের কুর্দিস্তানে সব স্কুল ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  

ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, দেশটির অনেকগুলো শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে। মানবাধিকার গ্রুপগুলো জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেল, ক্লাব এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তাজা গোলাবারুদের মুখেও স্কুলের মেয়েরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ চালিয়ে গেছে। তবে তেহরান তাজা গোলাবারুদ নিক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

স্কুল প্রাঙ্গণে ভ্যান প্রবেশের ছবি থাকা সত্ত্বেও দেশটির শিক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ মাহাদি কাজেম জানান, স্কুল থেকে এসব শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না। তবে তাদের অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি জানানো হবে।

গার্ডিয়ান দেশটির কয়েকজন শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্বেগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রাসত শহরের ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী মাতিন জানান, তার ১৬ বছরের বোন নাজনীনকে নিয়ে পরিবার খুবই উদ্বেগের মধ্যে আছে। তাদের মামা তাদেরকে ফোন করে নাজনীনকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে তাড়া দেন। এর পরপরই বাবা-মা ভয়ে স্কুল থেকে বোনকে গিয়ে নিয়ে আসেন। মামা বলেছিলেন পুলিশ স্কুলে হামলা চালাতে পারে।

এছাড়াও মাতিন আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা তার বন্ধুরা তাকে সতর্ক করে জানায়, বন্দর আব্বাস শহরে স্কুলশিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। শহরটি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে হোরমোজগান প্রদেশের বন্দর নগরী ও রাজধানী।

এরমধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বিক্ষোভ দমনকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

এরপর ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ মিরাহমাদি জানান, শনিবার (৮ অক্টোবর) তেহরান এবং সানন্দাজ বাদ দিয়ে বাকি দেশটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। এখন থেকে যারা দাঙ্গায় গ্রেফতার হবে, তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হবে। তাদের দ্রুত বিচার করা হবে বলেও জানান তিনি। 

ইত্তেফাক/এআই/ডিএস