ব্যক্তি শ্রেণি ও কোম্পানি করদাতাদের জন্য বাজেটে ছাড় দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের জোরালো দাবি থাকলেও বাজেটে তাদের জন্য সুখবর দিতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে না। অর্থাত্ করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান আড়াই লাখ টাকাই থাকছে। সে ক্ষেত্রে গত চার বছর ধরে করমুক্ত আয়ের সীমা একই থাকছে। ফলে গত চার বছরের মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় ব্যক্তি করদাতার ওপর করের চাপ বাড়ছে। তবে সম্পদের সারচার্জের (করের ওপর কর বা মাশুল) ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিয়ে সোয়া দুই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পদের ক্ষেত্রে সারচার্জ মওকুফ করা হয়েছে।
করমুক্ত আয়সীমা না বাড়ানোর পক্ষে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে করমুক্ত আয়সীমা মাথাপিছু আয়ের সমান বা তার চেয়ে কম। বাংলাদেশে বর্তমান করমুক্ত আয়সীমা মাথাপিছু আয়ের দেড় গুণের বেশি। এ অবস্থায় করমুক্ত আয়সীমা আরো বাড়ালে বিদ্যমান করদাতাদের অনেকেই করের আওতার বাইরে চলে যাবেন। এতে করভিত্তি সংকুচিত হবে।
বর্তমানে ব্যক্তি-করদাতার আড়াই লাখ টাকার পর থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১০ শতাংশ কর দিতে হয়। পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। অবশ্য মহিলা ও বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে আয়করমুক্ত-সীমায় কিছুটা ছাড় রয়েছে। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশিদের করহার ৩০ শতাংশ আর তামাকজাত পণ্য উত্পাদনকারী ব্যবসা থেকে আয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ ও সমবায় সমিতির অর্জিত আয়ের ওপর করহার ১৫ শতাংশ।
অন্যদিকে কোম্পানির করপোরেট করহার কমানোর বিষয়ে সরকার বিভিন্ন সময়ে সদিচ্ছার কথা জানালেও সম্ভাব্য রাজস্ব লোকসানের কথা চিন্তা করে সেখানেও পরিবর্তন আনা হয়নি।
বর্তমানে ছয় ধাপে করপোরেট করহার ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে তামাক কোম্পানিগুলোর ওপর আড়াই শতাংশ সারচার্জ হিসাব করলে তা সাড়ে ৪৭ শতাংশে দাঁড়ায়। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত করদাতা বা টিআইএনধারী ৪০ লাখের ওপরে। এর মধ্যে আয়কর বিবরণী দাখিল করেন প্রায় ২০ লাখ। তবে সরকারের আয়ের বেশিরভাগই আসে কোম্পানি করদাতার কাছ থেকে।
