তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৮ রানে জিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিলো ইংল্যান্ড। আজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও অজিদের একই ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেললো ইংলিশরা।
ক্যানবেরায় টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। ইংলিশদের ৭ উইকেটে ১৭৮ রানের জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রানেই থেমে যায় ক্যাঙ্গারুদের ইনিংস।
আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেওয়া জস বাটলার আর অ্যালেক্স হেলস আজ অবশ্য ২১ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি বাটলার ও হেলস। ৪র্থ ওভারের প্রথম বলে বাটলারকে ১৭ রানে বিদায় করেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার প্যাট কামিন্স।
এদিন সুবিধা করতে পারেননি অ্যালেক্স হেলসও। ৭ বল খেলে মাত্র ৪ রান করে মার্কাস স্টোয়নিসের শিকার হন তিনি।
৩১ রানে ইংল্যান্ডের দুই ওপেনারকে বিদায় দিয়ে, প্রতিপক্ষের মিডল-অর্ডারেও চেপে ধরে অস্ট্রেলিয়া। বেন স্টোকসকে ৭ রানে অ্যাডাম জাম্পা আর হ্যারি ব্রুককে ১ রানে তুলে নেন স্টোয়নিস। ৫৪ রানে ৪ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।
সেখান থেকেই দলের হাল ধরেন ডেভিড মালান ও মঈন আলি। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের উপর ছড়ি ঘুড়িয়েছেন তারা। ৩১ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফ-সেঞ্চুরি করেন মালান।
১৭তম ওভারে মালান-মঈন জুটি ভাঙ্গেন জাম্পা। ২৭ বল খেলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৪ রান করা মঈনকে আউট করেন জাম্পা। পঞ্চম উইকেটে মালান ও মঈন ৫২ বলে ৯২ রান যোগ করেন।
ইনিংসের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে আউট হন ৫৫ রানে জীবন পাওয়া মালান। আউট হওয়ার আগে ৪৯ বল খেলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৮২ রান করেন তিনি।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৮ রানের সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। অজিদের হয়ে মার্কাস স্টয়নিস ৩৪ রানে নেন ৩ উইকেট।
১৭৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ২২ রানের মধ্যে প্যাভিলিয়নের ফিরে যান দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ।
মিডল-অর্ডারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও ব্যর্থ এদিন, ৮ রানের বেশি করতে পারেননি এই হার্ড হিটার। ৮ ওভারে ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
সেই অবস্থা থেকে অজিদের লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন মিচেল মার্শ ও স্টোয়নিস। চতুর্থ উইকেটে স্টোয়নিকে নিয়ে ২৩ বলে ৪০ ও পঞ্চম উইকেটে টিম ডেভিডকে নিয়ে ১৬ বলে ২৩ রান তোলেন মার্শ। স্টোয়নিস ১৩ বলে ২২ রান করে কারানের শিকার হন। উইকেটে সেট হয়ে ইংল্যান্ডের মাথা ব্যথার কারন হয়ে দাঁড়ান মার্শ।
দলীয় ১১৪ রানে মার্শকে তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে কিছুটা চিন্তা মুক্ত করেন স্টোকস। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৯ বলে ৪৫ রান করেন মার্শ।
শেষ ৬ ওভারে জয়ের জন্য ৬৫ রান দরকার ছিলো অস্ট্রেলিয়ার। উইকেটে ছিলেন টিম ডেভিড ও ম্যাথু ওয়েড। মার্শ ফেরার পর ব্যাট হাতে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ডেভিড। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ বলে ৪০ রান তুলে ইংলিশদের বিপক্ষে জয়ের আশা জাগিয়েছিলেন ডেভিড।
১৮তম ওভারের ভয়ংকর রুপে থাকা ডেভিডকে বোল্ড করে ইংল্যান্ডকে দারুন এক ব্রেক-থ্রু এনে দেন কারান।
ডেভিড ফেরার পর পরের ১০ বলে কোন বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি ছিলো না অস্ট্রেলিয়া ইনিংসে। জয়ের জন্য শেষ ওভারে ২২ রানের দরকার পড়ে অস্ট্রেলিয়ার। কারানের করা প্রথম বলেই ছক্কা মারেন কামিন্স। কিন্তু শেষ পাঁচ বলে মাত্র ৭ রান নিতে পারেন কামিন্স ও ওয়েড।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রানে থামে অজিদের ইনিংস। ৮ রানে ম্যাচ হারের পাশাপাশি ইংলিশদের কাছে সিরিজও হেরে বসে অজিরা।
ইংল্যান্ডের হয়ে কারান ২৫ রানে ৩ উইকেট তুলে নেনে। ৪৯ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন মালান।
আগামী ১৪ অক্টোবর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭৮/৭ (মালান ৮২, মইন ৪৪; কামিন্স ৪-০-২৯-১, স্টোয়নিস ৪-০-৩৪-৩, জাম্পা ৩-০-২৬-২)
অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৭০/৬ (মার্শ ৪৫, স্টোয়নিস ২২, ডেভিড ৪০; স্টোকস ২-০-১০-১, কারান ৪-০-২৫-৩)
ফলাফল: ইংল্যান্ড ৮ রানে জয়ী
