টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। এবারের বাজেটকে বলা হচ্ছে দেশের প্রথম ‘স্মার্ট’ বাজেট। বৃহস্পতিবার বিকালে এ বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর বাকি অংশ সংসদে উপস্থাপন করেন। অর্থমন্ত্রীর বদলে প্রধানমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা করার ঘটনা এটিই দেশে প্রথম ঘটনা। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন অর্থমন্ত্রী। এসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, ১৫ আগস্টে নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, হত্যার আগে শিশু রাসেলের মায়ের কাছে যাওয়ার আকুতিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। যখন শিশু রাসেলকে দেখানো হচ্ছিল তখন করুণ সুরে বেজে উঠেছিল ‘আমি মায়ের কাছে যাব,,’ গানটি। এসময় অধিবেশন কক্ষে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং শিশু রাসেলকে যখন দেখানো হচ্ছিল তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এসময় তাকে কয়েকবার চোখ মুছতে দেখা যায়।
প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপনের পর তিনি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট বক্তৃতা করেন। প্রযুক্তির ব্যবহারে নানা গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে এবারের বাজেট উপস্থাপনায়। নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে উপস্থাপিত এ বাজেটকে দেশের সব মানুষের জন্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এতে পার্বত্যাঞ্চল যেমন বাদ যায়নি, তেমনি বাদ যায়নি সমতল ও চরাঞ্চল। উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিমের কেউ বাদ পড়েনি। দেশের কৃষক, কামার-কুমার, জেলে, তাঁতি, ব্যবসায়ী, বেদে, বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী, তৃতীয় লিঙ্গ, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ সব পেশার মানুষের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এ বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনাম দিয়ে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার বড় হলেও অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা ছিল স্মার্ট এবং সংক্ষিপ্ত। একইসঙ্গে সর্বস্তরের জনসাধারণের জন্য সহজপাঠ্য। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ‘অগ্রগতির ধারাবাহিকতা : সম্ভাবনাময় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১৬৩ পাতার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধির সাপানে বাংলাদেশ, উচ্চ প্রবৃদ্ধি রচনা’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১২৮ পাতার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ‘প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১১৮ পাতার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বইয়ের পরিধি ছিল ১৫০ পাতার। সর্বশেষ গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বইয়ের আকার ছিল ১৫৬ পাতার। এবারের বাজেট বক্তৃতার পৃষ্ঠা রয়েছে ১২৮টি।
