প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই বাজেটে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। ধনী ও সুবিধাভোগী শ্রেণির কথা চিন্তা করেই এই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হবে না। প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নতুনভাবে ঋণের সাথে করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে যেমন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, এই বাজেটেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। খসরু বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তাই তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধও নয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, এটি একটি ঋণনির্ভর বাজেট। এই ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, সুশাসনের অভাবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত। ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বন্ধ, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা, ব্যাংকে তারল্য সংকট রয়েছে। ঋণনির্ভর অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি হচ্ছে। যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি বেকার বাংলাদেশে। প্রবৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে, তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। যেভাবে জনগণ একাদশ সংসদ নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি এই বাজেটও গ্রহণ করবে না।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি এবার বাজেট প্রস্তাবনা তৈরি করেনি। এর কারণও পরিষ্কার। এ সরকার কারও যুক্তি-পরামর্শ গ্রহণ করে না। স্বৈরাচারী কায়দায় সব কিছু করে। সেখানে বিকল্প বাজেট ভাবনা দিয়ে কী হবে।
প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের কোনো ভাবনা, পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করে না। সে কারণে আমরা বিকল্প বাজেট ভাবনা দেয়া থেকে বিরত আছি। তবে আজ শুক্রবার বিএনপি’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বাজেট প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
