নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, মৃত ৫০০

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ১৬:৫৩

নাইজেরিয়ায় এক দশকের মধ্যে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে ১৪ লাখ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। নাইজেরিয়ার সরকারের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবল বৃষ্টির কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে দুর্বল অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দেশটিতে খাদ্যনিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাইজেরিয়ার মানবিকবিষয়ক মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) জানায়, বন্যায় ১৪ লাখের বেশি মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছে। প্রায় ৫০০ জনের প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৫৪৬ জন।

নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা

মন্ত্রণালয়ের তথ্য উপপরিচালক রোদা ইশাকু ইলিয়া জানান, ৪৫ হাজার ২৪৯টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭০ হাজার ৫৬৬ হেক্টর কৃষিজমি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র মানজো এজেকিয়েলের বরাত দিয়ে এএফপি বুধবার (১২ অক্টোবর) জানায়, সবশেষ এই পরিসংখ্যান গত সপ্তাহের শেষে নেওয়া। সাধারণত জুনে বর্ষাকাল শুরু হয়। তবে অধিকাংশ প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস ঘিরে।

নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা

মানবিকবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নাসির সানি-গওয়ারজো জানান, বন্যার্ত ব্যক্তিদের জনজীবন স্বাভাবিক করতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। বন্যার কারণে তেলবাহী ট্যাংকারগুলো পার্শ্ববর্তী রাজ্যে আটকে পড়ে। এতে জ্বালানিসংকট দেখা দিলে রাজধানী আবুজার পেট্রল স্টেশনগুলোয় চলতি সপ্তাহে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

নাইজার নদীর বন্যার কারণে দক্ষিণাঞ্চলীয় আনামব্রা রাজ্যে শুক্রবার (৭ অক্টোবর) এক নৌকাডুবির ঘটনায় ৭৬ জন প্রাণ হারান। আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় নভেম্বরে আর দক্ষিণে ডিসেম্বরে বর্ষা মৌসুম শেষ হয়। 

ইত্তেফাক/এএইচপি