ময়মনসিংহে বিএনপির চার শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২২, ১৭:১৫

ময়মনসিংহে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত চার শতাধিক নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। 

এর আগে, ওই ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়। কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশস্থল পলিটেকনিক মাঠ থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল করে স্টেশন চত্ত্বর এলাকায় চলা আওয়ামী লীগের অবস্থান কর্মসূচি হামলা চালায়। এসময় রাস্তায় জনগণের চলাচলে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। 

ময়মনসিংহে বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন দলের মহসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: ইত্তেফাক

এর আগে, শনিবার বিকালে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করার জন্য রেলওয়ে স্টেশন কৃষ্ণচূড়া চত্ত্বরে জমায়েত হয়। কর্মসূচিতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

মামলার ঘটনায় বিএনপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, আমাদের নেতা-কর্মীরা সমাবেশ শেষ করে বাড়ি ফেরার জন্য রেলওয়ে স্টেশনে যায়। এ সময় তাদেরকে দেখে আওয়ামী লীগের লোকজন হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ আমাদের নেতা-কর্মীদের ট্রেনে উঠিয়ে দেয়। বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালালে পুলিশ কেন তাদের ট্রেনে উঠিয়ে দিলো? এ ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগের চাপে পুলিশ মামলা করতে বাধ্য হয়।

এদিকে সন্ধ্যার দিকে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ শেষে কয়েকশ নেতাকর্মী নগরীর বাঘমারা এলাকা দিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে গেলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যায়। এসময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ তিন সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আহত হয়। পরে পুলিশ দুইপক্ষকেই ছত্রভঙ্গ করে দেয়। 
  

ইত্তেফাক/এএএম