মুরাদনগরে জীবিত থেকেও ২৩ বছর মৃত!

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২, ০২:০৬

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এক জীবিত নারীকে ২৩ বছর আগে মৃত দেখিয়ে তার নামে মৃত্যু সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 

উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন ৫ নম্বর পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের খৈয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খৈয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ির মৃত জয়দল হোসেনের স্ত্রী মিলন নেছার (৬৫) নামে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যু সনদপত্র দেওয়া হয়েছে। যার নম্বর ২০২২১৯১৮১৮১০০৫২৯৭। মৃত্যু সনদপত্রে তিনি ২৩ বছর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন উল্লেখ করা হয়েছে। 

শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় প্রতিবেদককে ওই নারী জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তার ছেলে জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনিও আর কথা বলেননি। এ বিষয়ে উপজেলার ৫ নম্বর পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন বলেন,  কীভাবে মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়েছে, এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। যে মিলন নেছা নামে মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়েছে, তিনি বর্তমানে জীবিত আছেন। তিনি মুন্সিবাড়ির মৃত জয়দল হোসেনের স্ত্রী ও জাকিরের মা।

ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রহিম পারভেজ বলেন, মিলন নেছার মৃত্যু সনদপত্রটি আমার কাছে তথ্য গোপন করে নিয়েছে। আমি সম্পূর্ণ অবগত ছিলাম না। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। 

এ বিষয়ে সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ তানভীর আহাম্মদ ফয়সাল বলেন, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত্যু সনদ দেওয়া জঘন্য অপরাধ। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে এবং বিষয়টি প্রমাণিত হলে ওই চেয়ারম্যানের জেল-জরিমানা বা চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ হতে পারেন। 

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন ভূইয়া জনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে তদন্ত করে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইত্তেফাক/পিও