শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দরিদ্র পরিবারের আয়ের ৭০ শতাংশ ব্যয় হয় খাদ্য কেনায়

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০২

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলোর মাসিক মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যয় হয় খাদ্যের পেছনে। তারা বলেন, মূল্যস্ফীতি এখন অনেক বেশি, যা ভবিষ্যতে আরো খারাপ হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে শুধু শহরাঞ্চলে নয়, দেশ জুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় যেমন—জ্বালানি তেল, গ্যাস, ওষুধ, বিদ্যুত্, গণপরিবহনের ভাড়া—সবকিছুই বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপনির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসন, খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সমন্বয়কারী কানিজ ফাতেমা প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী অনিরুদ্ধ রায়।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় জরিপে উঠে এসেছে, দেশে খানাপিছু গড় মাসিক আয় ১৫ হাজার ৯৪৫ টাকা। এর  মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ যায় খাদ্য কেনায়। এছাড়া দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে মাসিক মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় হয় খাদ্যের পেছনে। বক্তারা বলেন, সরকারের দারিদ্র্যবিমোচন এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মূল কর্মসূচি হলো ‘সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম’। কিন্তু এই কার্যক্রমও নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পগুলো পর্যাপ্ত এবং সর্বজনীন নয়। এই প্রকল্পগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই খণ্ডকালীন, মৌসুমি কিংবা দুর্যোগকালে বা দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে স্বল্প পরিসরে, যা সারা বছর সুরক্ষা প্রদানের জন্য কার্যকর নয়।

সমাবেশ থেকে বক্তারা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে নতুন দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং কর্মসূচিতে আর্থিক ও খাদ্যপণ্যের বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। এর আগে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জাতীয় জাদুঘর থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রদক্ষিণ করে আবার জাদুঘরে এসে শেষ হয়।

 

ইত্তেফাক/ইআ