শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হিলি স্থলবন্দরে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়ছে

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৩০

দীর্ঘদিন ধরে দাম স্থিতিশীল থাকার পর আবারও অস্থির হয়ে উঠছে পেঁয়াজের বাজার। ফলে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আড়তগুলোতে কয়েক দিন ধরে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে। 

প্রতিদিনই এক-দুই টাকা করে বেড়ে শুক্রবার দুপুরে বিক্রি হয়েছে ৩৮-৪০ টাকা দরে। কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে অন্তত ১০-১২ টাকা। সর্বশেষ গত সোমবার ২৬-২৮ টাকায় বিক্রি হয়েছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য। এদিকে হঠাৎ করে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকারসহ ভোক্তারা। 

জানতে চাইলে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শহীদুল ইসলাম জানান, ভারতের পেঁয়াজ উদপাদন এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক কালে বন্যা হওয়ায় আবাদ ব্যাহত হয়েছে। ফলে সেখানে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেওয়ায় চাহিদা মতো পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। কেজিতে ৮-১০ টাকা করে দাম বাড়িয়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। 

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে ভারতের পেঁয়াজের প্রচুর চাহিদা। তাই সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বেশি দাম দিয়ে আমাদের আমদানি করতে হচ্ছে। তবে বন্দর দিয়ে আগের চেয়ে পেঁয়াজের আমদানি কম হচ্ছে।

আরেক আমদানিকারক রেজাউল ইসলাম জানান, ভারত থেকে আমদানি কম হওয়ায় দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ভারতে নতুন পেঁয়াজ উঠলে দাম স্বাভাবিক হবে। এখন থেকে সরকারকে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ও দামের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা গত তিন দিন আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৬-২৮ টাকায় বিক্রি করেছি। আজ সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকার কাছে। 

বন্দরের আড়তে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার আইয়ুব আলী বলেন, ‘বন্দরের আড়ৎ থেকে পেঁয়াজ কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাই। প্রতিদিনই দুই-এক টাকা করে দাম বাড়ছে। গত তিন দিন ধরে এক লাফে ১০-১২ টাকা বেড়েছে। খুব সাবধানে কিনতে হচ্ছে। কারণ দাম বেশি। আবার পচনশীল। লোকসানে পড়া যাবে না।’ 

শুক্রবার বাজারে কথা হয় ক্রেতা আমিনুল ও সলেমান বলেন, ‘নাগালের মধ্যে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ২০ টাকার মধ্যে কিনেছি। আমরা দিন আনি দিন খাই। অন্যান্য পণ্যের মতো পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। আমাদের খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে।’

বন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা হিলি পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন মল্লিক বলেন, ‘গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে হিলি বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। ৮ অক্টোবর থেকে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা অব্যাহত রয়েছে। তবে আগের চেয়ে পেঁয়াজের আমদানি কম হচ্ছে। ভারতে বন্যার কারণে সংকট দেখা দেওয়ায় দাম বেড়েছে। এ কারণে আমদানিকারকেরা চাহিদা মতো পেঁয়াজ আমদানি করতে পারছেন না। 

এদিকে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের তথ্য মতে, গত পাঁচ কার্যদিবসে ভারতীয় ১১৪টি ট্রাকে ৩ হাজার ১৩ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে।

 

ইত্তেফাক/পিও