দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারতের কংগ্রেস পার্টির সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। দলের দুই জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং শশী থারুর এ পদের জন্য লড়ছেন। তবে গান্ধী পরিবারের কেউই এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। খবর দ্য হিন্দুর।
এই নির্বাচনকে ঘিরে অনেক আলোচনা হচ্ছে কারণ, দুই দশকেরও বেশি সময় পর গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ একজন ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সভাপতি হতে যাচ্ছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এরআগে ২০০০ সালে জিতেন্দ্র প্রসাদকে হারিয়ে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধী। এরপর বিনা ভোটেই কংগ্রেসের সভাপতি হন রাহুল গান্ধী।
কিন্তু ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট রাহুল লোকসভা ভোটে পরাজিত হয়ে সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলে সোনিয়াকেই আবার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। এরপর প্রায় তিন বছর পর সোমবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে সভাপতি পদে নির্বাচন। নেতা-কর্মীদের শত অনুরোধেও গান্ধী পরিবারের কেউ এবার ভোটে দাঁড়ায়নি।
কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মধুসূদন মিস্ত্রির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের সকল ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সারা দেশের কংগ্রেস কমিটির প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দলীয় প্রধান নির্বাচন করেন। এই প্রতিনিধিরা পাঁচ বছর পর পর সংগঠনের মধ্যে থেকে নির্বাচিত হন। দলের সদর দপ্তর দিল্লি ছাড়াও সমগ্র দেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তর ছাড়াও সারা ভারতের ৬৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং শশী থারুর নিজ নিজ রাজ্য কর্ণাটক এবং কেরালায় তাদের ভোট দেবেন।
এ ছাড়াও দিল্লিতে সেই প্রতিনিধিরাই তাদের ভোট দিতে পারেন যারা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগে থেকেই তাদের নিজের রাজ্যের পরিবর্তে দিল্লিতে ভোট দেওয়ার অনুমতি পেয়ে থাকেন।
ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে গেলে সিল করা ভোটবাকশোগুলো মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং খোলার আগে দিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে একটি স্ট্রং রুমে রাখা হবে।
এরপর বুধবারে (১৯ অক্টোবর) ভোট গণনা শুরু হবে। ওই দিনই ভোটের ফলাফল জানা যাবে। যিনি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাবেন তিনি কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
