রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পাথরঘাটা পৌরসভা

দরপত্র বিক্রির আগেই কাজ শেষ!

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৩৫

বরগুনার পাথরঘাটায় টেন্ডারের শিডিউল (দরপত্র) বিক্রির আগেই প্রায় অর্ধকোটি টাকার কাজ পছন্দের ঠিকাদারের কাছে বণ্টন করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এরই মধ্যে ঐ ঠিকাদাররা কাজ শুরু করেছেন। পাথরঘাটা পৌরসভার ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের (এডিবি) আওতায় ছয়টি প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী ১৯ অক্টোবর দরপত্র (টেন্ডার) খোলার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা পৌরসভার ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের (এডিবি) আওতায় ছয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাথরঘাটা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরে গত ২২ সেপ্টেম্বর ০১/২০২২-২০২৩ নম্বর টেন্ডার নোটিশ একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকায় ও একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় ও একটি আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। ঐ টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঠিকাদারদের কাছে দরপত্র বিক্রি করা হবে। ১৯ অক্টোবর দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র পৌরসভা গ্রহণ করবে এবং ঐদিন বিকাল ৩টায় দরপত্রগুলো খোলা হবে। প্রত্যেক প্রকল্পের অনুকূলে যে ঠিকাদার চুক্তিমূল্য কম  দেবেন তিনি ঐ কাজের ঠিকাদার নিয়োগ পাবেন।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, ঐ নোটিশে ১ ও ২ নম্বর প্যাকেজে থাকা পাথরঘাটা পৌরসভার খোলা মুরগি বাজার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ ইতিমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ শেষ হয়ে গেছে। পাথরঘাটা পৌরসভা ভবন মেরামত কাজও শেষ হয়ে গেছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দরপত্র আহ্বানের কথা জানেন না!

অনেকে বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত জায়গা থেকে শিডিউল ক্রয় করতে গেলে তা পাওয়া যায়নি। পৌরসভা কার্যালয়ে এই দরপত্রের কোনো নোটিশ টানানো হয়নি। অথচ দরপত্রে উল্লিখিত কাজ শুরু হয়েছে মাসখানেক আগেই। দরপত্রে অংশগ্রহণ ছাড়া এভাবে হঠাত্ করে কাজ শুরু করায় হতবাক হয়ে পড়েন আগ্রহী ঠিকাদারেরা।

পাথরঘাটা পৌরসভার ঠিকাদার মেসার্স জেমি এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম কিবরিয়া পিয়ার বলেন, আমি এখানকার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। গত ২০ দিন আগে প্রকাশিত দরপত্রের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। জানতে পেরেছি পৌর কর্তৃপক্ষ গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে নিজেদের লোকজনদের মধ্যে কাজ ভাগ বাটোয়ারা করে দেবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার বলেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তারা জানতে পারেন পাথরঘাটা পৌরসভা ছয়টি কাজের অনুকূলে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। শিডিউল কিনতে গিয়ে জানতে পারি কাজগুলো আগে থেকেই পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের সুবিধামতো ঠিকাদারদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয় পাথরঘাটার পৌরসভার সচিব মো. জসিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টেন্ডার সংক্রান্ত কাজকর্ম সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। এসব কাজকর্ম প্রকৌশলী ও পৌর মেয়র দেখাশোনা করেন। পাথরঘাটা পৌরসভা সহকারী প্রকৌশলী গাজী নজরুল ইসলাম এ বিষয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পাথরঘাটার পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন বলেন, পৌরসভার নাগরিকদের কথা চিন্তা করে অনেক সময় কাউন্সিলররা কাজ করে থাকেন। নাহলে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আর এ কারণেই পৌর নাগরিকের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে টেন্ডারের আগেই কাজ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, কোনো ঠিকাদার যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিডিউল ক্রয় করতে চান, তাহলে আমরা শিডিউল বিক্রি করব। তারা টেন্ডার ড্রপ করতে পারবেন।

ইত্তেফাক/ইআ