বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮০ লাখ মানুষ লিভার রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে মারা যায় ২৩ হাজার। বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার রোগীকে লিভার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বাঁচানো সম্ভব। সচ্ছল রোগীরা ৩০ লাখ থেকে কোটি টাকা খরচ করে বিদেশে গিয়ে লিভার প্রতিস্থাপন করছেন। কিন্তু অসচ্ছল রোগীরা লিভার প্রতিস্থাপন করতে না পেরে মৃত্যুকে বরণ করে নেন। এ কারণে বিএসএমএমইউয়ে শিগিগরই নিয়মিত লিভার প্রতিস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘মুজিবশতবর্ষ লিভার প্রতিস্থাপন প্রোগ্রাম’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সি-ব্লকে হেপাটোবিলিয়ারি, পেনক্রিয়াটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগে ‘মুজিবশতবর্ষ লিভার প্রতিস্থাপন প্রোগ্রাম’-এর উদ্বোধন করেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, শিগগিরই নিয়মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার প্রতিস্থাপন শুরু করা হবে। এতে করে রোগীদের জীবন যেমন বাঁচবে, তেমনি বছরে কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা জানান, বিশ্বে প্রতি বছর ৩৮ থেকে ৪০ হাজার রোগীর লিভার প্রতিস্থাপন হয়। এর মধ্যে আমেরিকা ও ইউরোপেই সর্বোচ্চ। দক্ষিণ এশিয়ায় ৩ থেকে ৪ হাজার রোগীর লিভার প্রতিস্থাপন হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ২০১৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার প্রতিস্থাপন শুরু হয়। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, পেনক্রিয়াটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগে লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিভিন্ন বিভাগ থেকে আগত রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা দ্বারা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২২ জন লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিএসএমএমইউতে এসেছেন। তার মধ্যে ১২ জন রোগী লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য নির্ধারিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি পেনক্রিয়াটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোহছেন চৌধুরী।
