সড়কে কেউ নিয়ম মানছে না। চালকদের মধ্যে এ ধারণা তৈরি হয়েছে যে, দুর্ঘটনা ঘটলে টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করা যায়। এমনকি চালকরা এটিও বলছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে ১০ হাজার টাকা ও আহত হয়ে হাত-পা ভাঙলে ৫ হাজার টাকা দিলেই পুলিশসহ সবাই ম্যানেজ হয়ে যায়। টাকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য লাইনম্যান রয়েছে।’
সড়কে বিশৃঙ্খলা বাড়ার কারণে দুর্ঘটনায় হাসপাতালে বিভিন্ন জখম নিয়ে দিন দিন রোগী বাড়ছে। মাথা ও মেরুদণ্ডে জখম হওয়া রোগীদের হাসপাতালে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডাক্তারদের। দুর্ঘটনা কমাতে হলে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সোমবার (১৭ অক্টোবর) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্স অ্যান্ড হসপিটালে ট্রমা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, সড়কে ফুটওভারব্রিজ থাকলেও মানুষের মধ্যে সেটি ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায় না। এতে দুর্ঘটনা বাড়ছে। বিদেশে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করলে জরিমানা করা হয়। এতে মানুষ বাধ্য হয়ে তা ব্যবহার করে। আমাদের দেশেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এতে করে দুর্ঘটনা কমবে। দুর্বল আইনের কারণেও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। শুধু ট্রাফিক বিভাগের প্রচেষ্টা নয়, মানুষের মধ্যেও আইন মানার প্রবণতা বাড়াতে কাজ করতে হবে। তা হলে সড়কের মধ্যে অব্যবস্থাপনা দূর হবে।
সেমিনারে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্স অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, হঠাৎ করে সড়কে কারো মৃত্যুর খবর খুবই বেদনাদায়ক। কিন্তু সড়কে প্রতিনিয়তই এমন দুর্ঘটনায় অনেকের মৃত্যু ঘটছে। একটি মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য সারা জীবনের কান্না, কষ্টদায়ক ব্যাপার। দুর্বল আইনের কারণে বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও আইনের ফাঁকফোকরে বের হয়ে যাচ্ছে অনেকে। এতে ফের বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে সড়কে। দুর্ঘটনা বেড়ে ট্রমা রোগী বাড়ছে হাসপাতালে।
নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল্লাহ আলমগীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক খান। এছাড়া সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্স অ্যান্ড হসপিটালের যুগ্ম-পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম, নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মালিয়া হাকিম, অধ্যাপক ডা. সাদের হোসেন প্রমুখ।
