গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত শুরু

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২২, ২২:০৪

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের উপ-নির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত  শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) থেকে। চলবে আগামী বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এই তিনদিন তদন্ত পরিচালনা করবেন।

এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নওগাঁ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও র্যাবের কমান্ডিং কর্মকর্তা, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সাঘাটা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্ট, প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থী এবং সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট দিন, সময় ও স্থানে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

রোববার (১৬ অক্টোবর) তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শাহেদুন্নবী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক পত্র পাওয়ার পর সোমবার বার (১৭ অক্টোবর)সন্ধ্যায় গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মোত্তালিব গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান,  আগামীকাল  মঙ্গলবার গাইবান্ধা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে সকাল ৯টায় শুরু হওয়া তদন্ত শেষ হবে বিকেল চারটায়। প্রথম দিন ১১জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৬৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৫৫ জন পোলিং এজেন্ট, ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়া ব্যক্তি, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় দিন বুধবার সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সম্মেলন কক্ষে ৪০ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ২৭৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ২০০ জন পোলিং এজেন্ট, সাঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়া ব্যক্তি, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নওগাঁ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সাঘাটা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও র্যাবের কমান্ডিং কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিত বক্তব্যসহ নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মোত্তালিব জানান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন বন্ধ ঘোষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালনকারীদের নির্দিষ্ট দিন, সময় ও স্থানে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে সাঘাটা উপজেলার কাজী আজাহার আলী বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম শহীদ রঞ্জু অভিযোগ তোলেন কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে এবং তাদেরকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। তখন দুপুর সাড়ে বারোটা। সাঘাটা উপজেলার বগারভিটা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ছাড়া বাকী চার প্রার্থী একত্রিত হয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। 

পরদিন বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এ উপনির্বাচনে সংঘটিত অনিয়মের ঘটনা তদন্তে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথকে আহবায়ক এবং মো: শাহেদুন্নবী চৌধুরীকে সদস্য সচিব ও  যুগ্মসচিব মো: কামাল উদ্দিন বিশ্বাসকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

ভোট বর্জনকারী চার প্রার্থী হলেন- জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু (লাঙল), বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম (কুলা), স্বতন্¿ প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ (আপেল) এবং স্বতন্¿ প্রার্থী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান (ট্রাক)। আর আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন। এই পাঁচজন প্রার্থী এই উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 

প্রসঙ্গত গাইবান্ধা-৫ আসনের সাংসদ ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া গত ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেলে আসনটি শুণ্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই আসনে উপ-নির্বাচনের দিন গত বুধবার (গত ১২ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ঢাকায় নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে সিসি ক্যামেরায় বিভিন্ন অনিয়ম দেখে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথমে ৩টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত ঘোষনা করেন নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ঢাকা থেকে একের পর এক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিতের ঘোষণা আসতে থাকে। এক পর্যায়ে বেলা আড়াইটায় পুরো ভোটগ্রহন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

ইত্তেফাক/এএইচপি