বন্যার ক্ষতি পোষাতে শত শত কোটি ডলার ঋণ চায় পাকিস্তান

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩২

ধ্বংসাত্মক বন্যার পর অর্থনৈতিক সংকট আরো গভীর হওয়ায় ঋণ হিসাবে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছে শত শত কোটি ডলার চাইবে পাকিস্তান। বুধবার ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, ‘আমরা ঋণের পুনঃতপশিল বা স্থগিতাদেশের মতো কোনো পদক্ষেপ চাইছি না, আমরা অতিরিক্ত তহবিল চাইছি।’ শরিফ বলেছেন, বন্যায় রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পুনর্নির্মাণের জন্য ‘বড় ধরনের উদ্যোগ’ নিতে হবে। আর এ জন্য আমাদের ‘বিপুল পরিমাণ অর্থ’ দরকার। 

পাকিস্তানে ধ্বংসাত্মক বন্যা । ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান কী পরিমাণ অর্থ চাইছে শরিফ তা নির্দিষ্ট করে না বললেও বন্যায় তিন হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। দেশটিতে নজিরবিহীন বন্যার পর পানিবাহিত রোগের বিস্তার এবং বাড়তে থাকা অনাহার নতুন বিপদ ডেকে আনতে পারে এমন শঙ্কায় চলতি মাসের প্রথম দিকে জাতিসংঘ পাকিস্তানের জন্য আবেদন করা মানবিক ত্রাণ সহায়তার পরিমাণ ১৬ কোটি ডলার থেকে পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ৮১ কোটি ৬০ লাখ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও তাদের বন্যা সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ৩ কোটি ইউরো করেছে। 

পাকিস্তানে ধ্বংসাত্মক বন্যা পরিস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত

বন্যার পাশাপাশি পাকিস্তানের মুদ্রার দরপতনে আমদানি, ধার ও ঋণ পরিষেবার খরচ বেড়ে গেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ইতিমধ্যেই কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৭ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় অর্থনীতির হিসাবকৃত ৩ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতির পাশাপাশি ইসলামাবাদের বৈদেশিক ঋণের শর্ত পূরণের মতো অর্থ বাড়ানোর ক্ষমতা আছে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলেছে। 

এদিকে দেশটিতে এ ভয়াবহ বন্যার কারণ হিসাবে জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী প্রকৃতির এই রুঢ় আচরণ মনুষ্যসৃষ্ট কারণেই ঘটছে। গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যোগ হয়েছে দুর্বল ব্যবস্থাপনা, নদীর বাঁধ ভেঙে পড়া ও পাহাড়ি ঢল।

পাকিস্তানে ধ্বংসাত্মক বন্যা পরিস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত

বন্যার ভয়াবহতা নিয়ে ইসলামাবাদের জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. ফাহাদ সাঈদ বলেন, ‘আমরা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার সাক্ষী হচ্ছি।

আর এর কারণ হিসাবে আমরা নিজেদের দোষকে এড়িয়ে যেতে পারি না। মনুষ্যসৃষ্ট কারণেই বন্যা আজ এত ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শেরি রহমান জানিয়েছেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পানিতে ডুবে গেছে। এমন বৃষ্টি পাকিস্তান এর আগে কখনো দেখেনি। তারা বলছেন, পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সৃষ্টি হচ্ছে বৃষ্টির পরিবেশ। ২০২১ সালের একটি সমীক্ষা অনুসারে, বৈশ্বিক উষ্ণতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বন্যা এবং এর তীব্রতা বাড়াচ্ছে। প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বৃষ্টি বাড়ছে ৫ শতাংশ। কেউ কেউ আবার বন্যার ভয়াবহতার জন্য বন উজাড় ও নদীর বাঁধগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা বলছেন।

 

 

ইত্তেফাক/ইআ