শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নেত্রকোণায় শিক্ষক ছাড়াই চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়!

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২২, ১৪:২০

নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ১৭৩টি পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলার ১টি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকই নেই। ২০টি বিদ্যালয়ে ২ জন করে শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চলছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। 

কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৭২টি সহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১টি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকই নেই। ওই বিদ্যালয়ে পেষণে দুজন শিক্ষক দিয়ে ধুকে ধুকে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান চলছে। স্কুলটির নাম শিবপুর ছুবেদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

২০টি বিদ্যালয়ে ২ জন করে শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। সেগুলো হচ্ছে ফকির চান্দুয়াইল, ভাটিপাড়া, হাইলাটী, বালুচরা, বেনুয়া পূর্বপাড়া, গারামপাড়া, কলা ২, রিকা, ভাষাণকুড়া, সৌলজান, দিলুড়া, নক্তিপাড়া, বেতুয়া লায়লা, শিবপুর, উত্তর রাণীগাঁও, গুতমন্ডল, বেনুয়া, জামসেন ও কৃষ্ণপুর, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ সংখ্যা ৬১ জন ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ ১১১ জন। 

খলা (২) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল গণি জানান, বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২২৪ জন। আমিসহ ২ জন কর্মরত আছি। আর ৫ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। 

ভাষাণকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বিদ্যালয়ে ২৭০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। আমিসহ ২ জন শিক্ষক কর্মরত আছি। বিদ্যালয়ের কাজে শিক্ষা অফিসে গেলে ১ জন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেন। যার প্রেক্ষিতে খুবই কষ্ট হয়। 

কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল হোসেন জানান, বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট। যার ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চলতি দায়িত্বে থাকা একজন প্রধান শিক্ষক জানান, ৫৬ জন চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়গুলোতে চাহিদার তুলনায় শিক্ষকও কম। একজন শিক্ষক একাধিক ক্লাস নেওয়ার কারণে বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। 

শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। আবার অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম শিক্ষক রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা। 

কলামাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন জানান, প্রচুর শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। নতুন নিয়োগ হলে শূন্য পদ পূরণ করা হবে। সহকারী শিক্ষা অফিসার ও তৃতীয় শ্রেণির ৬টি পদ শূন্য রয়েছে তাও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

ইত্তেফাক/পিও