নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও দৌছড়ি সীমান্তের ওপারে নতুন করে গোলাগুলি!

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২, ০২:০১

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও দৌছড়ি ইউনিয়ন অংশের মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে একের পর এক মর্টারশেল ও আর্টিলারি বোমা বিস্ফোরণ ও প্রচন্ড গুলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্ধ্যা পযর্ন্ত অনবরত গোলাগুলি ও ভারী অস্ত্রসহ মর্টারশেলের শব্দ হয়। সন্ধ্যার পরও থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ফের আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, শনিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৪, ৬, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের চেরারমাঠ সীমান্তের ৪৪, ৪৫, ৪৬ ও দৌছড়ি ইউনিয়নের ৪৭, ৪৮ ও ৫৯ পিলার পুরান মাইজ্জা ক্যাম্প, অংচাফ্রী ক্যাম্প ও সালি ডং ক্যাম্পের ওপারের মিয়ানমার অভ্যন্তরে অগণিত মর্টার ও আর্টিলারি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। এসব গোলার আওয়াজে এপারে যেন ভূমিকম্প সৃষ্টি হচ্ছিল। 

নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবছার বলেন, দুপুর থেকে সদর ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড ৪৩, ৪৪ নং পিলার চেরার মাঠ এলাকার ওপারে গোলাগুলিতে কেঁপে ওঠে এপার। ওপারে গুলাগুলি ও আর্টিলারি মটারশেল বিস্ফোরণের আওয়াজে এপারের গ্রামের অনেক বাসাবাড়ি কেঁপে ওঠেছে। আতংকে এলাকাবাসী ছুটাছুটি করছেন। 

নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের সমাজকর্মী মো. ইফসান খান বলেন, মিয়ানমারের ওপারে সীমান্তে সংঘটিত গোলাগুলিতে এপারের ভূখন্ডে প্রায় ১৫টির মত গুলি আমাদের ভূখন্ডে এসে পড়েছে বলে জানতে পেরেছি।

দৌছড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দু শুক্কুর বলেন, সকালে ধান ক্ষেতে কাজ করার সময় হঠাৎ মিয়ানমার ভূখন্ডে সীমান্তে প্রচন্ড গোলাগুলির আওয়াজ শুনতে পায়। গোলাগুলির আওয়াজ শুনে ধান ক্ষেত থেকে সরে আসার পর পরই দুইটি ভারী অস্ত্রের গুলি লেমুছড়ি বিজিবি ক্যাম্পের প্রায় তিনশত গজ দূরত্বে এসে পড়েছে বলে জেনেছি।
 
এদিকে, জামছড়ি জামে মসজিদে যোহর নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি, মোয়াজ্জেম ও ইমাম জানিয়েছেন, ওপারে বিস্ফোরণের আওয়াজে যোহরের নামাজের সময় অনেকটা ভয় কাজ করেছিল। কখন জানি মটার্শেল আমাদের এখানে এসে পড়ে। 

এবিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা ফেরদৌস বলেন, সদর ইউনিয়ন ও দৌছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মর্টারশেলের আওয়াজ হয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্তে বসবাস রত সকলকে নিরাপদে চলাফেরা করার জন্য চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তবে, কোন গুলি এপারে এসেছে কি না তা নিশ্চিত নয়।

তবে, এ বিষয়ে নাইক্যংছড়ি ১১ বিজিবির ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

ইত্তেফাক/ইআ