ঢাকা-ডামুড্যাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে সেতুর ধাক্কায় ৩ যাত্রী মারা যাওয়ার ঘটনায় স্বর্ণদ্বীপ প্লাস লঞ্চটি জব্দ ও লঞ্চের দুই শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৩ অক্টোবর) ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে গোসাইরহাট উপজেলার সাইখ্যা নামক স্থানে মেঘনার শাখা জয়ন্তিয়া নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত সাগর আলী, শাকিল আহমেদ শান্ত ও তানজিল গাজিপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক।
নিহত সাগর আলী, শাকিল আহমেদ শান্ত ও তানজিলের লাশ গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর আহত সাগর (১৮) ও হীরাকে (২৪) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গোসাইরহাট থানা সূত্র জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার সদরঘাট থেকে স্বর্ণদ্বীপ প্লাস লঞ্চটি যাত্রী নিয়ে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা সদরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ভোর রাতের দিকে মেঘনা নদী থেকে লঞ্চটি জয়ন্তিয়া নদীতে প্রবেশ করে। তখন নদীতে জোয়ার চলছিল। যার ফলে পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। অসতর্কভাবে লঞ্চ চালানোর কারণে গোসাইরহাটের সাইখ্যা এলাকায় সেতুর সঙ্গে লঞ্চের ধাক্কা লাগে। লঞ্চের তৃতীয় তলায় থাকা পানির ট্যাংকির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। ওই পানির ট্যাংকি ছিটকে ঘুমন্ত যাত্রীদের ওপর পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন যাত্রী মারা যায়। এ সময় আরও ২ জন আহত হয়েছে।
গোসাইরহাট থানার ওসি আসলাম সিকদার বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। এর পর লাশ পরিবারের কাছে হাস্তান্তর করা হবে। আর লঞ্চ জব্দ করা হয়েছে। লঞ্চের মাস্টার ও চালককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
স্বর্ণদ্বীপ প্লাস লঞ্চের মালিক আব্দুল জব্বার মুঠোফোনে বলেন, ২০ বছর ধরে আমার লঞ্চটি ওই রুটে চলাচল করছে। কখনো এমন হয়নি। দুর্ঘটনার বিষয়টি গণমাধ্যমের খবরে আমি জেনেছি। লঞ্চের শ্রমিকরা আমাকে কিছুই জানায়নি। তারা লঞ্চটি ঘাটে নোঙ্গর করে পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানি না।
