ভিডিও এডিটিংয়ের বিনামূল্যের সফটওয়্যার

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯, ২১:১০

আরিফুর রহমান

 

ভিডিও এডিটিংয়ের কথা মনে হলেই মনে হয় প্রফেশনাল কোনো দক্ষ মানুষের কথা। একটা সময় পর্যন্ত ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ করার কথা সাধারণ কোনো মানুষ কল্পনাও করতে পারত না। তার খুব বেশি প্রয়োজন বোধ করত না সবাই। তবে সময়ের সাথে স াথে বদলে গেছে দৃশ্যপট। এখন ফেসবুক আর ইউটিউবের এই যুগে ভিডিও পরিণত হয়েছে খুব সাধারণ বিষয়ে। হাতে হাতে মোবাইল আর স্মার্টফোন ছড়িয়ে পড়ায় এসব ডিভাইস থেকে প্রতি মুহূর্তেই রেকর্ড হচ্ছে হাজার হাজার ভিডিও। রেকর্ডের পরেই সেগুলো ছড়িয়ে যাচ্ছে ইউটিউবে, ভিমিও’র মতো ভিডিও শেয়ারিং সাইটে কিংবা ফেসবুকে। তবে সাধারণ মোবাইল ফোনগুলোতে অনেক সময়েই ভালো মানের ক্যামেরা থাকে না। ফলে ভিডিও’র মানও খুব বেশি ভালো হয় না। অনেক সময়ে তাই এসব ভিডিও নিজেই কিছুটা এডিটিংয়ের প্রয়োজন পড়ে। আবার অন্য যেকোনো ভিডিওতেও স্পেশাল ইফেক্ট যুক্ত করা বা বাড়তি অডিও যুক্ত করার ইচ্ছা জাগতেই পারে মনে। এসব কাজের জন্যই প্রয়োজন পড়ে ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারের।

বিনামূল্যের ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার

ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য যেসব সফটওয়্যার রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করতে গেলে যে অর্থ খরচ  করতে হবে, এতে কোনো ভুল নেই, যাবতীয় প্রফেশনাল কাজই করা যায় এসব সফটওয়্যার ব্যবহার করে। তবে তাই বলে যে ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য বিনামূল্যে ভালো কোনো সফটওয়্যার নেই তা নয়। অ্যাডোবি’র প্রিমিয়ার ইলেমেন্টস, অ্যাপল ফাইনাল কাট প্রো, কোরেল ভিডিও স্টুডিও, সাইবারলিংক পাওয়ার ডিরেক্টর, পিন্যাকল স্টুডিও আলটিমেট, সনি মুভি স্টুডিও প্লাটিনাম—এগুলো হচ্ছে ভিডিও এডিটিংয়ের সবচেয়ে ভালো সফটওয়্যারগুলো নাম। তবে এগুলো সমান ফিচার উপহার না দিতে পারলেও বিনামূল্রের ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার গুলোতেও রয়েছে ভিডিও এডিটিংয়ের মৌলিক কাজগুলোর পাশাপাশি বাড়তি সব ফিচার। বিনামূল্যের এসব সফটওয়্যারের মধ্য থেকে পাঁচটি নিয়ে আলোচনা করা হলো এখানে।

উইন্ডোজ মুভি মেকার

ভিডিও এডিটিংয়ের বিনামূল্যের প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে সম্ভব সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত এবং জনপ্রিয় প্রোগ্রমের নাম উইন্ডোজ মুভি মেকার। উইন্ডোজ এক্সপির জন্য এটি বিল্ট-ইন হিসেবেই সংযোজিত ছিল। তবে আগের উইন্ডোজ ভার্সনে এটি ব্যবহার করতে চাইলে আলাদা সফটওয়্যার হিসেবে ডাউনলোড করে নিতে হবে। ব্যবহারের দিক থেকে উইন্ডোজ মুভি মেকার অত্যন্ত সহজ। প্রায় সব ধরনের ফরম্যঅটের ভিডিও ফাইল সমর্থন করে এই প্রোগ্রামটি। মুভি মেকারের উইন্ডোতে সরাসরি ড্র্যাগ-অ্যাড-ড্রপের মাধ্যমেই সংযোজন ক রা যায় এসব বিভিন্ন ফরম্যঅটের ভিডিও ক্লিপ। এরপর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই একের পর এক বসে একটি ভিডিও তৈরি করবে। এক ক্লিপ শেষ করে অন্য ক্লিপে যাওয়ার মধ্যেকার অংশের জন্য বিল্ট-ইন হিসেবেই এতে রয়েছে নানা ধরনের ইফেক্ট। প্রতিটি ক্লিপ কীভাবে পর্দায় হাজির হবে না ক্লিপটির শেষ হবে কীভাবে, সেসবের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ইফেক্ট। এ ছাড়া সাউন্ডট্র্যাক যুক্ত করা; ভিডিওর শুরুতে প্রোগ্রামটি ব্যবহার করে। মাইক্রোসফটের অফিস ব্যবহার করে যারা অভ্যস্ত, তাদের জন্য এটি ব্যবহার করা ঝামেলার হবে না। http://goo.gl.z33k1 লিংক থেকে আপনার প্রয়োজনীয় সংস্করণের মুভি মেকার ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

ডিবাগমোড ওয়াক্স

ভিডিও এডিটিং এবং ভিডিওতে স্পেশাল ইফেক্ট যুক্ত করতে আরও একটি বহুল ব্যবহূত এবং সহজ সফটওয়্যারের নাম ডিবাগমোড ওয়াক্স। এর নির্মাতারা একে হাইপারফরম্যান্স অ্যান্ড ফ্লেক্সিবল ভিডিও কম্পোজিশন অ্যান্ড স্পেশাল ইফেক্ট সফটওয়্যার হিসেবে দাবি করেছেন। নিজের পছন্দের ভিডিওগুলোতে মনের মতো ইফেক্ট যুক্ত করার সুবিধা দিতেই তৈরি হয়েছে এই ফ্রিওয়্যার। ওয়াক্সের বড় একটি ফিচার হচ্ছে একে দুইটি মোডে ব্যবহার করা যায়। আলাদাভাবে স্ট্যান্ডঅ্যালোন সফটওয়্যার হিসেবে একে ব্যবহার করে টুডি বা থ্রিডি ইফেক্ট তৈরি করা যায়। আবার একে অন্যান্য নন-লিনিয়ার এডিটিং সিস্টেমের (যেমন, সনির ভেগাস, অ্যাডোবি প্রিমিয়ার, পিওর মোশন এডিট স্টুডও) সাথে প্লাগ-ইন হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ফলে অ্যামেচারের পাশাপাশি প্রফেশনালরাও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এর বিভিন্ন ফিচার হিসেবে রয়েছে রোটোমেট (ভিডিওর উপরে পেইন্ট করার সুবিধা),  মোডেল লোডার (থ্রিডিএস, এমডিটু প্রভৃতি ফাইল), টেক্সট থ্রিডি প্রভৃতি। এতে গ্রাফিক অ্যাকসেলারেশনও রয়েছে।

ডাউনলোড লিংক http://goo.gl/kUHW।

ফ্রিমেক ভিডিও কনভার্টার

নাম দেখেই বুঝা যায়, ফ্রিমেক ভিডিও কনভার্টারের মূল কাজ হচ্ছে ভিডিওকে এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাটে রূপান্তর করা। তবে এর কাজ কেবল ভিডিও কনফার্সনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সাথে মৌলিক সুবিধার কিছু ভিডিও এডিটিং ফিচারও রয়েছে। এতে একাধিক ভিডিও ক্লিপকে ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করে যুক্ত করা থাকে এবং সেগুলোর সমন্বয়ে সাজানোও যাবে। সেসব ক্লিপকে আবার কেটে ছোট করা, ঘোরানো ক্লিপ পেট্যান্টে, প্রতিটি ক্লিপের ফরম্যাট পরিবর্তন প্রভৃতি সুবিধা পাওয়া যাবে এতে। অ্যান্ড্রয়েড গতিতে কাজ করতে সক্ষম। ডাউনলোডের ঠিকানা www.freemaker.com ছবির ফরম্যাটও পরিবর্তন করতে পারে ফ্রিমেক ভিডিও কনভার্টার।

ভার্চুয়াল ডাব

ভার্চুয়াল ডাব সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে এটি কেবল এভিআই ফরম্যাটের ভিডিও নিয়েই কাজ করতে পারে, এমপিইজি-১ ফরম্যাট এটি রিড করতে পারলেও রাইট করতে পারে না। তবে সারা বিশ্বেই এখন ভিডিও ফরম্যাট হিসেবে এভিআই ফাইলের অসম্ভব জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফলে কেবল একটি ফরম্যাট সমর্থন করলেও ভার্চুয়াল ডাব ভিডিও এডিটিংয়ের ভালো একটি সফটওয়্যার। এর ইউজার ইন্টারফেস অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এবং এখান থেকে সহজেই ভিডিও ক্লিপগুলো এডিট করা যায়। এসব এডিটিং ফিচারের মধ্যে রয়েছে ভিডিও শার্প করা, ব্লার করা, আবার ছোট-বড়া করা, রোটেট করা (যেকোনো পরিমাণে), উজ্জ্বলতা কমানো-বাড়ানো, রঙে ইফেক্ট দেওয়া প্রভৃতি। ভার্চুয়াল ডাবের বড় একটি সুবিধা হচ্ছে ব্যাচ প্রসেসিং। অর্থাত্ একগুচ্ছ ভিডিওতে বা ভিডিও ক্লিপে একই ধরনের পরিবর্তন করতে চাইলে তা এক কমান্ডেই করার সুবিধা রয়েছে। থার্ড-পার্টি ভিডিও ফিল্টরের সাথেও এটি ব্যবহূত হতে পারে। www.virtualdub.org ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে এই সফটওয়্যার।