লড়াইয়ের পুঁজি পেলো বাংলাদেশ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২২, ১২:৩৫

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে মাঝের ছন্দপতন সামলে ডাচদের বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে লড়াই করার মতো ১৪৪ রানের সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। 

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচটি  প্রথম পর্ব পেরিয়ে আসা নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে। হোবার্টের বেলেরিভভ ওভালে প্রথম ম্যাচেই টসে হেরে গেলো বাংলাদেশ। টস জিতে টাইগারদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানালো ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামাটা যেন শাপে বরই হয়ে এলো বাংলাদেশের কাছে। পাওয়ার প্লে শেষে ১ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪৭ রান। 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌম্য সরকারের সঙ্গী হয়েছেন ছন্দে না থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত।  ছন্দে না থাকা সেই শান্তই যেন পাওয়ার প্লে'তে এগিয়ে নিলো বাংলাদেশকে। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই বাংলাদেশের জন্য উড়ন্ত শুরুটা অবশ্য এনে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। ফ্রেড ক্লাসেনের ওভার থেকে দুই বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১২ রান। 

দ্বিতীয় আর তৃতীয় ওভারটা একটু দেখেশুনে খেললে কিছুটা কমে রান তোলার গতি।  চতুর্থ ওভারে এসে হাত খোলেন শান্ত। বাস ডি লিডের ওভার থেকে টানা দুই চারে ১৪ রান তোলেন সেই টাইগার ওপেনার। ফ্রেড ক্লাসেনের পরের ওভারের প্রথম দুই বলেও টানা দুই বাউন্ডারি। পাঁচ ওভারে শেষেই স্কোরবোর্ডে ৪৩ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ।

ভালো শুরুর পরও পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারে এসে ছন্দপতন বাংলাদেশের। পল ভ্যান মেকেরেনের ওই ওভারের প্রথম বলেই মিডউইকেটে বাস ডি লিডের হাতে ধরা পড়েন সৌম্য। ১৪ বলে ১৪ রান করেই সাজঘরে ফেরেন এই টাইগার ওপেনার। ৪৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। 

তিন নম্বরে নামা লিটন দাস ওই ওভারটি দেখেশুনে খেললে পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৪৭ রান।  

উদ্বোধনী জুটির সঙ্গীকে হারিয়ে আর যেন মন টিকলো না শান্তরও। সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই ভ্যান বিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২০ বলে ২৫ রান করেই ফিরে যান শান্ত।

অষ্টম ওভারে কোনো উইকেট না হারালেও লিটন আর অধিনায়ক সাকিব মিলে তোলেন ৬ রান। নবম ওভারে এসে খেই হারালেন ফর্মে থাকা লিটন দাস। ভ্যান বিকের করা ওই ওভারের চতুর্থ বলে মিড অফে টম কুপারের হাতে ধরা পড়েন লিটন।  ১১ বলে ৯ রান করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।

১০ম ওভারের প্রথম বলে আরেকবার ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। শারিজ আহমেদের প্রথম বলেই ডিপ মিডউইকেটে বাউন্ডারি লাইনে বাস ডি লিডের হাতে ধরা পড়েন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ৯ বল খেলে ৭ রান করেন তিনি। 

শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো কিছুর আভাসই দিচ্ছিলো দুই টাইগার ওপেনার। তবে অলিখিত নিয়ম অনুসারেই যেন হঠাৎ করেই ছন্দপতন বাংলাদেশের। ভালো শুরুর পরও ২০ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে এবার উল্টো চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

৪৩ থেকে ৬৩, এই ২০ রানের ব্যবধানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুকতে থাকে বাংলাদেশ।  বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দিতে হোবার্টের আকাশ জুড়ে নেমে আসে বৃষ্টির ধারা। ৯.৩ ওভার খেলা হওয়ার পরই মাঠ ছেড়ে উঠে যেতে হয় দুই দলকে। অবশ্য সেটি বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।  মিনিট পাঁচেকের ভেতরেই আবার মাঠে নামে দুই দল।

বৃষ্টি বাঁধার পর ১১তম ওভারে ইয়াসির আলীকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে আরেকটি ধাক্কা দেন পল ভ্যান মেকেরেন। ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ইয়র্কারে ইয়াসিরের স্ট্যাম্প ভাঙলে ৭৬ রানেই ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে টাইগারদের হয়ে প্রতিরোধ গড়েন আফিফ আর নুরুল হাসান সোহান মিলে। পরের তিন ওভারে কোনো বাউন্ডারি ছাড়াই এই দুজন মিলে তোলেন ১৮ রান। ১৫তম ওভারে এসে হাত খোলেন আফিফ। শারিজ আহমেদের ওই ওভার থেকে টানা চার ছয়ে ১৩২ রান তলেন আফিফ। বাংলাদেশের রানও ছাড়ায় ১১০'র ঘর।

পরের ওভারে ২৮ রানে থাকা অবস্থায় কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া পেয়েছেন আফিফ। ডিপ মিডউইকেটে আফিফের ক্যাচ হাতে জমাতে পারেননি টিম প্রিঙ্গল। 

১৬তম ওভারে জীবন পাওয়ার পর ১৭তম ওভারের শেষ বলে মেকেরেনকে বাউন্ডারি মেরে টাইগারদের স্কোরবোর্ডে ১২০ রান তলেন আফিফ।

পরের ওভারে প্রথম বলেই সোহানকে ফিরিয়ে টাইগারদের আরেকবার ধাক্কা দেন বাস ডি লিড। ১৮ বলে ১৩ রান করে সোহান ফিরলে ভাঙে আফিফের সঙ্গে ৪৪ রানের রানের জুটি। আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই চার মেরে রানের খাতা খোলেন মোসাদ্দেক। তবে ওভারের শেষ বলে আফিফকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ২ চার আর ২ ছয়ে ২৭ বলে ৩৮ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আফিফ। ১২৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। 

১৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি দিয়ে ফ্রেড ক্লাসেনকে স্বাগত জানান মোসাদ্দেক। এক বল বাদেই ওভারের তৃতীয় বলে তাসকিন আহমেদকে শূন্য রানে ফিরিয়ে টাইগারদের ৮ম উইকেট তুলে নেন ক্লাসেন। 

বাস ডি লিডের করা ইনিংসের শেষ ওভার থেকে এক ছক্কায় ১০ রান তুললে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৪৪ রান। ১২ বলে ২ চার আর ১ ছক্কায় ২০ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন মোসাদ্দেক। ডাচদের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন পল ভ্যান মেকেরেন আর বাসদ ডি লিড।

ইত্তেফাক/এসএস