সরকারি ভাতা বাড়ানোর দাবিতে জার্মানিতে বিক্ষোভ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২২, ১৪:৫৯

চরম মূল্যস্ফীতির সঙ্গে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে লড়াই করছে জার্মানির জনগণ। চাপ সামলাতে সরকার থেকে জনগণকে কিছু ভাতা দেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয় দাবি করে আরও ভাতার জন্য জার্মানির ছয়টি নগরীতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। শনিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানী বার্লিন, ডুসেলডর্ফ, হানোফার, স্টুগার্ট, ড্রেসডেন এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের হাতে নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। তাতে মূল্যস্ফীতি কমানো থেকে শুরু করে পরমাণু শক্তি কেন্দ্র বন্ধ করা এবং দরিদ্রদের জন্য জ্বালানি খরচ হিসেবে আরও ভাতা দেওয়ার নানা দাবি লেখা ছিল।

বিক্ষোভ আয়োজকদের মধ্যে গ্রিনপিসও ছিল। গ্রিনপিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবারের এই বিক্ষোভে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। বার্লিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ।

বিক্ষোভ আয়োজকদের একজন আড্রেয়া ককসিস জানান, সামাজিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ নাগরিকদের জন্য জরুরিভিত্তিতে আরও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। সরকার অনেক কিছু করছে। কিন্তু তারা যেভাবে তহবিল বিতরণ করছে তা যথেষ্ট নয়। স্বল্প আয়ের মানুষদের ধনীদের তুলনায় বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব থেকে কোম্পানি ও পরিবারকে রক্ষা করতে শুক্রবার (২১ অক্টোবর) জার্মান পার্লামেন্ট ২০ হাজার কোটি ইউরোর সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে।

এই প্যাকেজের আওতায় এক মাসের গ্যাস বিল কাভার করে এমন পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন পরিবার এবং ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে। এছাড়া, আগামী মার্চ মাস থেকে যেন গ্যাসের দাম কমিয়ে আনা যায় তার ব্যবস্থাতেও খরচ করা হবে।

জার্মানিতে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণেই মূলত এটা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উররিস ফ্রাঞ্জ নামে বার্লিনের এক বিক্ষোভকারী জানান, আরও ন্যায়সঙ্গত পথে যদি বিতরণ করা হয় তবে আরও ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন। অনেক কোটিপতি আছেন যারা অধিক কর দিতে আগ্রহী। কিন্তু তিনি এখনও তেমন কিছু ঘটতে দেখছেন না।

ইত্তেফাক/এআই/ডিএস