মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়

করোনার টিকাদানে অব্যবস্থাপনা, অসুস্থ অনেক শিশু

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২২, ০০:১৫

রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুরা করোনার টিকা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কারণে বিদ্যালয়ের রূপনগর শাখার অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্কুলের সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আমরা ছয়টি বুথ করেছিলাম। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের শুধু দুই জন কর্মী এসে দুটি বুথে টিকা দিয়েছেন। গত রবিবার স্কুলটির তিনটি শাখায় টিকা প্রদানের নির্ধারিত তারিখ ছিল।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইয়ীদা নারগীর জানান, টিকা দেওয়ার জন্য পাঠদানের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। শিক্ষার্থীরা সকাল ৭টা ২০ মিনিটে উপস্থিত হন। প্রত্যেকের সঙ্গে এক জন অভিভাবকও আসেন। আমাদের ধারণা ছিল স্বাস্থ্যকর্মীরা ৯টার মধ্যে আসবেন। কিন্তু তারা এসেছেন ১০টা ৩৫ মিনিটে।

গত রবিবার অভিভাবকরা বলেন, কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে ছয়-সাত বছরের কিছু শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর পর বুথ চালু করে টিকা দিতে লেগে যায় আরো কয়েক ঘণ্টা। টানা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে  অনেকে। ইংরেজি ভার্সনের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর টিকা দেওয়ার ঠিক আগে অসুস্থ হয়ে ঢলে পড়ে। পরে শিক্ষক ও অভিভাবকরা মিলে তাকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেয়। এই পরিস্থিতি দেখে শিশু শিক্ষার্থীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।  

স্কুলটির শিক্ষকরা জানান, মাত্র দুটি বুথ চালু থাকায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া যায়নি। আজিজুল নামে এক অভিভাবক জানান, আমার মেয়ে সকাল ৭টায় বাসা থেকে বের হয়ে স্কুলে এসেছে। কিন্তু ১১টার সময়েও সে টিকা দিতে পারেনি। তার টিকা দিতে ১২টা পর্যন্ত লেগে যায়। টানা ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই কথা জানিয়েছেন, সালমা, মুজাহিদ, রফিক নামের অভিভাবকরাও। 

অভিভাবকরা বলছেন, টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে স্কুলের সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলেই এমনটি হচ্ছে। আমরা সন্তানদের নিয়ে ভুগছি। পর্যাপ্ত টিকাকর্মী নিয়ে এই কার্যক্রম চালু করা দরকার। এছাড়া শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে মনিটরিংও দরকার। নইলে ভোগান্তি বাড়তেই থাকবে। তবে টিকা দেওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীকে বেশ উত্ফুল্লও দেখা গেছে। ফরিদ হোসেন নামে এক শিক্ষক জানান, ঠিক সময়ে ও পর্যাপ্ত সংখ্যক টিকাদান কর্মী থাকলে শিক্ষার্থীদের এত সমস্যায় পড়তে হতো না।  

৫ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়ার বিষয়টি সমন্বয় করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ঢাকার মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মজিদ জানান, আমরা মাধ্যমিক স্তরের যেসব স্কুলে প্রাথমিক শাখা আছে সে তথ্যটি শুধু প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেই। বাকি কাজ করে থাকেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরই। আর প্রাথমিকের ঢাকা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ জানান, স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের তথ্য নিয়ে এই তালিকা আমরা স্বাস্থ্য বিভাগে মেইল করি। আর কোনো দায়িত্ব আমাদের নেই। মনিটরিংয়ের দায়িত্বও আমাদের নয়। এই দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিভাগের। 

ঢাকার এই অংশের টিকা প্রদানের বিষয়টি পরিচালনা করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।  সংস্থাটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, টিকাদান কর্মীরা মহাখালী থেকে টিকা নিয়ে কেন্দ্রে যান। আর ঢাকায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে কত সময় লাগবে তা কেউ বলতে পারে না। এ কারণে খুব ভোরে স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয় না বলে তিনি মত দেন। 

ইত্তেফাক/ইআ