ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করে দেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। রাত আড়াইটার দিকে এই রিপোর্ট লেখার সময় ঘূর্ণিঝড়টি দেশের মধ্যভাগ অতিক্রম করছিল। এর আগে ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ সোমবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় ও এর মূল কেন্দ্র রাত ৯টায় উপকূলে আঘাত হানে।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ রাত ২টা ৩৫ মিনিটে ইত্তেফাক অনলাইনকে জানান, আজ রাতের অবশিষ্ট সময়ে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে অল্প পরিমাণে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যাতে পারে। ঢাকা শহরে ভোর ৫টার পর বৃষ্টিপাত থেমে যেতে পারে এবং বাতাসের গতিবেগও কমে আসবে।
তিনি জানান, জাপানের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং বর্তমানে সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর, চট্টগ্রাম (উত্তর চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলা) ও ঢাকার বিভাগের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে। ঘূর্ণিঝড়টির সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে। একইসময়ে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জেলায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। এসব স্থানে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার দিবাগত মধ্যরাতের মধ্যে রাজধানী হয়ে সিলেট দিয়ে বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারে। এ সময় এটি দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে বাতাসের গতিবেগ ছিল সবচেয়ে বেশি—ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার। এ ছাড়া বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে নদ–নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট উচ্চতায় আছড়ে পড়ে। তবে বাতাসের গতিবেগ কম থাকায় জলোচ্ছ্বাসের গতিবেগও ছিল কম।
