বর্তমান সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূতদের কার্যালয়ের জন্য নিজস্ব ভবন তৈরিতে আন্তরিক। ভাড়া বাসার বদলে নিজস্ব বাসা থাকিলে তাহাতে যেমন অর্থ সাশ্রয় হয়, তেমনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিভিন্ন সেবা দেওয়াও হয় সহজ ও সুবিধাজনক। ইহা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করিতেও সহায়ক। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ভবন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এই দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিচয় মেলে। বর্তমানে ইহা একটি ঐতিহ্যবাহী ভবনও বটে। ভবনটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলেই দুই দেশের জমি বিনিময় কর্মসূচির আওতায় লাভ করি আমরা। বঙ্গবন্ধু যুক্তরাষ্ট্রে গেলে এই ভবনেই উঠিতেন। সমপ্রতি ২০১৭ সালে মেরিল্যান্ডের বেথেস্ডায় ৪ হাইবরো কোর্টে অবস্থিত ও ‘বাংলাদেশ হাউজ’ বলিয়া পরিচিত এই ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ইহা এখন রান্নাঘর হিসাবে ব্যবহূত হইতেছে এমন খবরও প্রকাশিত হইয়াছে পত্রপত্রিকায়। বর্তমান রাষ্ট্রদূত মেরিল্যান্ডেই পটোম্যাকে ৯ অ্যালাওয়ে কোর্টে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করিতেছেন। মাসিক ভাড়া ৮ হাজার ডলার। ইহাতে বাংলাদেশ সরকারকে গত পাঁচ বত্সরে ব্যয় করিতে হইয়াছে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ডলার বা প্রায় ৪ কোটি টাকা। এই পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয়ের স্বার্থে জরাজীর্ণ এই ভবনটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা আবশ্যক হইয়া পড়িয়াছে।
জানা যায়, গত রমজান মাসে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল পরিত্যক্ত সেই ভবনটি পরিদর্শন করিয়া আসিয়াছেন। সেখানে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে একটি নূতন ভবন নির্মিত হইবে। ইহার জন্য অর্থও বরাদ্দ করা হইয়াছে। কিন্তু বাংলাদেশ চাহিলেও দ্রুত ইহার নির্মাণকাজ শুরু করিতে পারিতেছে না। নিয়ম অনুযায়ী ইহা নির্মাণ করিবে আমেরিকার কোনো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। নির্মাণকাজ শুরু হইলে তাহা সম্পন্ন করিতে লাগিবে দুই বত্সর। এই ব্যাপারে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল ইত্তেফাককে একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করিয়াছে। তাহাদের মতে, বিদেশে যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সহজসাধ্য নহে। একদিকে স্থানীয় আইন অনুসরণ করিতে হয়, অন্যদিকে স্বাগতিক দেশের বিল্ডিং কোডসহ মিউনিসিপাল আইনও প্রতিপালন করিতে হয়। তাহা ছাড়া কনসালট্যান্সি বা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ওপর সেই অর্থে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা দুঃসাধ্য।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ভবনটি পুনর্নির্মাণে কালবিলম্বের কারণটি আমরা অস্বীকার করি না। তবে এই কথাও সত্য যে, আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম চাওয়া-পাওয়া হইল দ্রুত এই ভবনটির পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা। বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা নানা সমস্যায় নিপতিত। তাহারা রেমিট্যান্স পাঠাইয়া আমাদের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখিলেও অনেক ক্ষেত্রে তাহারা অবহেলা-অনাদরের শিকার। তাহারা অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। এইজন্য বিভিন্ন দেশে অবস্থিত দূতাবাস কার্যালয়গুলির কর্মকতাদের যেমন এই ব্যাপারে দায়িত্বশীল হইতে হইবে, তেমনি তাহাদের সর্বপ্রকার সুযোগ-সুবিধা সমপ্রসারণ করাও বাঞ্ছনীয়। দীর্ঘমেয়াদে সেখানে নিজস্ব দূতাবাস ভবন বা কনস্যুলেট অফিস স্থাপন করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। সংশ্লিষ্ট মহলকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্রান্ত আন্তরিক অভিপ্রায়কে গুরুত্ব দিয়াই কাজ করিয়া যাইতে হইবে।
