‘পল্লিগীতিকে জাতীয় জীবনে ছড়িয়ে দিয়েছেন আব্বাসউদ্দীন’

স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২২, ০৬:২৫

আব্বাসউদ্দীন আহমদ বাঙালি মুসলিম রেঁনেসায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বাংলার লোকগীতি ভাওয়াইয়া-পল্লিগীতিকে জাতীয় জীবনে ছড়িয়ে দিয়েছেন। বাঙালির অন্তরে স্থান করে দিয়ে গেছেন। আব্বাসউদ্দীন আহমদ জানতেন, আমাদের সমস্ত গানের মূলে পল্লিগীতি। কবি কাজী নজরুল ইসলামের সংস্পর্শে এসে আব্বাসউদ্দীনের মধ্যে যে দেশাত্মবোধ বা স্বদেশপ্রেমের জাগরণ হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তিনি বাঙালির অন্তরে সেই পল্লিগীতি-ভাটিয়ালিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

লোকসংগীত শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১২১তম জন্মবার্ষিকীতে তাকে নিয়ে আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘আব্বাসউদ্দীন আহমদ: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনাসভার আয়োজন করে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সেমিনারে মুখ্য প্রবন্ধ পাঠ করেন আব্বাসউদ্দীন আহমদের নাতনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাশিদ কামাল, আলোচক ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক মনোরঞ্জন ঘোষাল। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান।

অধ্যাপক নাশিদ কামাল বলেন, ‘দাদু ত্রিশ, চল্লিশের দশকে মুসলিম সম্প্রদায়ের আত্মজাগরণে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তখন কলকাতার এইচএমভি রেকর্ডসে একজন মুসলমান শিল্পী গাইবেন, এ ছিল অভাবনীয়। দাদু শুধু শিল্পের বিকাশই ঘটাননি, গানের মাধ্যমে তিনি তত্কালীন মুসলমান সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবেও উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ঐ সময় তার গানগুলো লেখা ও সুর করতেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।’

মনোরঞ্জন ঘোষাল বলেন, ‘ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে আব্বাসউদ্দীন আহমদ এক যুদ্ধ করেছিলেন। ভারতবর্ষ যখন বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও হিন্দুস্থানে বিভক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন চলছে, তখন আব্বাসউদ্দীন আহমদ কেবল গান গেয়েই এক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি এইচএমভি রেকর্ডসে কে মল্লিক বা কিরণ কুমারের মতো নিজের নাম না বদলে আব্বাসউদ্দীন আহমদ নামেই গান করেছিলেন। এইচএমভি রেকর্ডস পল্লিগীতি রেকর্ড করতে চাইত না। কিন্তু তার গান তুমুল জনপ্রিয় হওয়ায় তারা পরে আব্বাসউদ্দীনকে দিয়ে অসংখ্য ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালি গান রেকর্ড করে নেয়।’

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘লোকসংগীত শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের গানও আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বেগবান করেছে, ত্বরান্বিত করেছে।’

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘শিল্পী আব্বাসউদ্দীন ছিলেন একজন কীর্তিমান ও অসাধারণ মানুষ। কীর্তিমান সে মানুষ কখনো সত্যের সঙ্গে আপস করেননি।’

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন